নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যখন অবিশ্বাসীদের সাধারণ মানুষের মতো বিশ্বাস স্থাপন করতে বলা হয়, তখন তারা নির্বোধদের মতো বিশ্বাস করতে অস্বীকৃতি জানায়; অথচ আসলে তারাই নির্বোধ, যা তারা উপলব্ধি করে না। মানব সভ্যতার সূচনা থেকেই সত্য ও মিথ্যার চিরন্তন দ্বন্দ্ব চলে আসছে এবং সমাজে যখনই কোনো সংস্কারক সত্যের বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছেন, স্বার্থান্বেষী মহল সবসময় তার বিরোধিতা করেছে।
মহানবী (সা.)-এর মক্কা ও মদিনার জীবনধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইসলামের একত্ববাদ প্রচার থামিয়ে দিতে সেসময়ে প্রধানত তিনটি ভিন্ন বিরোধী দলের উত্থান ঘটেছিল। এই তিন পক্ষের বিরোধিতার কৌশল, মানসিকতা ও পদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা ছিল এবং বর্তমান আধুনিক যুগেও সত্যের অনুসারীদের এই তিন শ্রেণির বিরুদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়।
প্রথম দলটির নেতৃত্বে ছিল মক্কার প্রভাবশালী ও অভিজাত নেতারা, যারা নবী (সা.) ও তাঁর সাহাবিদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে শত্রুতা শুরু করে। তাদের বিরোধিতায় তীব্র শত্রুতা থাকলেও মাঝেমধ্যে এক ধরনের আভিজাত্য, সামান্য যুক্তিবোধ ও শিষ্টাচারের প্রকাশ ঘটত।
এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো আবু জাহেলের ঘটনা, যেখানে নবীজিকে গালমন্দের খবর শুনে চাচা হামজা (রা.) এসে আবু জাহেলের মাথা ফাটিয়ে দেন। পরে তার গোত্র বনু মাখজুম চড়াও হতে চাইলে আবু জাহেল নিজেই ভাতিজাকে গালমন্দ করার কথা স্বীকার করে হামজাকে ছেড়ে দিতে বলে।
পরবর্তী দলগুলো বাহ্যিকভাবে ইসলামের গ্রহণের ভান করে সমাজের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এবং অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ফিতনা, অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও গুজব ছড়ানোর অপকর্মে লিপ্ত হয়। শেষোক্ত এই গোষ্ঠীটি মূলত দৃষ্টিহীন ও মোহগ্রস্ত এক অন্ধ সম্প্রদায় হিসেবে পরিচিত ছিল।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর