নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ তিন বছর তিন মাস কারাভোগের পর গত বুধবার সৌদি আরব সরকারের পক্ষ থেকে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরুলের ফাঁসি কার্যকরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাঁর গ্রামের বাড়িতে মানুষের ভিড় জমছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন এসে শোকার্ত পরিবারটির খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছেন।
এলাকার বাসিন্দা মাইনুদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, কোনো ধরনের আত্মপক্ষ সমর্থনের আইনি সুযোগ না দিয়েই অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। একটি হতদরিদ্র কৃষক পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন নজরুল, তাই তাঁর এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি গাজী নিয়াজুল করিম এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এখন পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে চরম অবহেলা করা হয়েছে। দূতাবাস যদি সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নিত এবং যথাযথ যোগাযোগ রাখত, তবে হয়তো এমন দুঃখজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। এমনকি আজ পর্যন্ত নজরুলের শোকার্ত পরিবারের সঙ্গেও দূতাবাসের কেউ কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি।
অন্যদিকে, এই পুরো বিষয়টি সম্পর্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ জানান, নিহত নজরুলের বাড়ি যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়, সেই তথ্য তিনি ইতিমধ্যে জানতে পেরেছেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। পাশাপাশি, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেও এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো ধরনের নির্দেশনা বা বার্তা এসে পৌঁছায়নি বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর