নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সীমান্তের ওপার থেকে দেশ থেকে বিতাড়িত স্বৈরাচারী চক্র অর্থায়ন চালিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের ভেতরের আরেকটি গোষ্ঠী দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করে তিনি সামগ্রিক বিষয়ে দেশবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার জোর তাগিদ দিয়েছেন।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে সরকারপ্রধান জানান, দেশের কয়েকটি নির্দিষ্ট শিল্প কারখানায় পরিকল্পিতভাবে শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। হাজারো জনতার সামনে এই বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে যে পলায়নপর স্বৈরাচারী শক্তি কল-কারখানায় অর্থ ঢালছে।
এই অর্থ কার মাধ্যমে ব্যয় করা হচ্ছে তা ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা অতীতে মিথ্যা প্রচার চালিয়েছিল এবং নির্বাচনের প্রাক্কালে নানা রকম টিকিট বিক্রির ফন্দি এঁটেছিল, সেই অপশক্তি এবং পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের দোসররা এখন একাট্টা হয়েছে। সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ জুগিয়ে ভেতরে অস্থিরতা তৈরির এই দুই পক্ষকে প্রতিহত করতে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচনের আগের সেসব রাজনৈতিক তৎপরতার প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, সাধারণ মানুষ তাদের সেই টিকিট প্রত্যাখ্যান করেছে। সে সময় ফ্যামিলি কার্ড বন্ধের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল, যার ফলে মায়েরা ও বোনেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন অথচ কুচক্রীদের তাতে কিছু যায়-আসে না।
তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, এখন দেশবাসীকে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন এবং কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডের মতো জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপগুলো চালু রাখতে চায় কি না।
উত্তর হ্যাঁ সূচক হলে আগামী পাঁচ বছরও বিএনপিকে একইভাবে সমর্থন দিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, যেসব রাজনৈতিক দল একাত্তর থেকে শুরু করে গতকাল পর্যন্ত সুযোগ পেলেই জাতিকে বিভ্রান্ত করেছে এবং দেশকে ভুল পথে পরিচালিত করেছে, তাদের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া আবশ্যক।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার প্রাক্কালে শত শত নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছিল। সেই সব শহীদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে গতকাল ঢাকায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও উদ্বোধন করা হয়েছে।
বিএনপির আদর্শ তুলে ধরে তিনি বলেন, এই দল একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান—উভয়কেই লালন করে। চব্বিশের চেতনাকে ধারণ করেই বিএনপি জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এবং শহীদ পরিবারগুলোর জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি আহত যোদ্ধাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, মুখে যারা চব্বিশের চেতনা ধারণের কথা বলে, এমন সব রাজনৈতিক দলকেই সেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের সেই অনুষ্ঠানে ওই দলগুলোর কোনো প্রতিনিধিই উপস্থিত ছিলেন না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, একাত্তরে তারা যেভাবে জনগণকে প্রতারিত করেছিল, ঠিক একইভাবে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানেও তারা একই ধরনের ধোঁকাবাজি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মুখে এক কথা বললেও তাদের কর্মকাণ্ডে সম্পূর্ণ ভিন্নরূপেরই প্রতিফলন দেখা যায় বলে কঠোর সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর