নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সেন্ট পিটার্সবার্গে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের ঠিক আগের দিন নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রপ্রধানের পাশাপাশি ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের সরকারপ্রধান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সামরিক জোট ন্যাটোর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন বিশেষ দূত উইটকফ। তিনি রুশ প্রশাসনকে অবগত করেন যে নরওয়ের ওই আলোচনায় সমঝোতার পথে নতুন গতিশীলতা এসেছে। একজন মার্কিন প্রতিনিধির ভাষ্যমতে, ইউক্রেনীয় পক্ষ সেখানে বেশ কিছু নতুন চিন্তাভাবনা ও প্রস্তাব পেশ করেছে। যদিও এই প্রস্তাবগুলোতে সম্পূর্ণভাবে সন্তুষ্ট হতে পারেনি মস্কো। রুশ নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা সেন্ট পিটার্সবার্গের আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের জানান, নরওয়ের বৈঠকে হওয়া কথাবার্তার কিছু দিক তাদের আশানুরূপ হয়নি।
অন্যদিকে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন যে যুদ্ধ থামানোর অত্যন্ত জরুরি বিষয়গুলো নিয়ে মার্কিন ও রুশ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একটি ত্রিমুখী বৈঠকে অংশ নিতে আগ্রহী তিনি। তবে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে দুই দেশের শীর্ষ নেতার মাঝে সরাসরি কোনো বৈঠক বসার আগে তাদের ঘনিষ্ট সহকারীদের মাধ্যমে সব প্রস্তুতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সম্পন্ন করতে হবে, যাতে সেই বৈঠকটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা না হয়ে বরং কার্যকর ও বাস্তবমুখী হয়।
মস্কোর সঙ্গে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক যোগাযোগ মার্কিন রাজধানী ওয়াশিংটন এবং ইউক্রেনীয় রাজধানী কিয়েভের পারস্পরিক সম্পর্কে নতুন করে দূরত্ব ও জটিলতা তৈরি করেছে। মাস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সাম্প্রতিক এই টানাপোড়েনের মূল সূত্রপাত ঘটে চলতি মাসের শুরুতে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে রুশ সরকারের সঙ্গে ডিজেল আমদানি সংক্রান্ত একটি চুক্তির কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে আসন্ন নভেম্বর মাসে নির্ধারিত দেশটির আইনসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে।
রুশ জ্বালানি আমদানির এই চুক্তির পরপরই ইউক্রেনীয় সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের গোয়েন্দা তথ্য শেয়ারিং কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সামরিক যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত বিশেষ স্টারশিল্ড স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের কার্যকারিতাতেও নানা ধরনের বিঘ্ন ঘটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। তবে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট নিশ্চিত করেছেন যে নরওয়ের বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে এই জটিলতাগুলো নিরসনের ব্যাপারে একটি পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর