নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ২০১৬ সাল থেকেই রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মস্কোপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলে আসছে। তাঁর প্রথমবার প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার সময়কাল থেকেই এই বিষয়টি বারবার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, চলমান ইউক্রেন সংকটের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া দৃশ্যমান বড় কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ বা অন্যায় কিছু করছে না।
অথচ বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। দেশটির সরকারি সূত্র দাবি করেছে যে, ট্রাম্প যখন এই মন্তব্য করছেন, ঠিক সেই একই দিনে চালানো ভয়াবহ রুশ ড্রোন হামলায় মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন দুই শিশুসহ মোট ছয়জন সাধারণ নাগরিক।
এদিকে গত কিছুদিন ধরে ইউক্রেনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কির বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার সুর আরও চড়া হয়েছে। তাঁর জোরালো মত হলো, রক্তক্ষয়ী এই সংঘাত চিরতরে বন্ধ করার জন্য কিয়েভ ও মস্কোর এখনই একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি।
গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ট্রাম্প নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী একটি পারস্পরিক সমঝোতার চুক্তি করার উপযুক্ত সময় এখনই উপস্থিত হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও যোগ করেন যে, আমেরিকা কিয়েভকে বিপুল পরিমাণ সহায়তা প্রদান করলেও বিনিময়ে মার্কিন প্রশাসন আদতে কিছুই ফেরত পায়নি।
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই একক দাবির সঙ্গে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করেছেন মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নীতি নির্ধারক সমালোচকেরা। তাঁদের শক্ত যুক্তি হলো, কিয়েভকে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে মূলত ওয়াশিংটন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত লাভবান হয়েছে।
সমালোচকেরা ব্যাখ্যা করে জানান, ইউক্রেনীয়দের মাধ্যমে মার্কিন সামরিক বাহিনী রুশ সামরিক সক্ষমতা ও কৌশল সম্পর্কে অত্যন্ত মূল্যবান ও গভীর অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছে। সমরাস্ত্রের বাস্তব ব্যবহার দেখার এই সুযোগ ওয়াশিংটনের সামরিক নথিপত্রকে সমৃদ্ধ করেছে।
বিশেষ করে ড্রোন যুদ্ধ পরিচালনা, আধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং বিভিন্ন আধুনিক অস্ত্রের কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের ধারণা বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্ট হয়েছে।
তাছাড়া, এই সামরিক সহায়তার আরেকটি বড় ইতিবাচক দিক হলো যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পখাত। কিয়েভকে অস্ত্র সরবরাহের জেরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি সামগ্রিক অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর