ঢাকা | বঙ্গাব্দ

আর্থিক লেনদেনের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন কুশনার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 23, 2026 ইং
আর্থিক লেনদেনের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন কুশনার ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে কুশনার সরাসরি নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছিলেন। সেই যোগাযোগের ক্ষেত্রে তৎকালীন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রিডম্যান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিলেন। তবে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে সমস্ত অভিযোগের অবতারণা করা হয়েছে, সেগুলোকে কোনো ধরনের অন্যায়ের প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে আইনিভাবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হয়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদনটির সূত্র ধরে জানা যায় যে, এই কথিত লেনদেনগুলো সংঘটিত হয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদকালে, ঠিক যে সময়ে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আসীন ছিলেন।

বর্তমান সময়ে ৪৫ বছর বয়সী কুশনার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনানুষ্ঠানিক শান্তি প্রতিষ্ঠার মহতি উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে একযোগে যৌথভাবে কাজ করে চলেছেন। মূলত এই দুই ব্যক্তিকে নিয়ে গঠিত গঠিত বিশেষ উদ্যোগটিকে মার্কিন প্রশাসনের তরফ থেকে ট্রাম্পের কার্যত অনানুষ্ঠানিক শান্তি আলোচক দল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, কুশনার সম্পর্কে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিজ কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্পের স্বামী হন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি সুনির্দিষ্ট পোস্টে কুশনার এই সমস্ত অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ পাগলামি’ এবং একই সঙ্গে এগুলো ‘কখনোই ঘটেনি’ বলে অত্যন্ত জোরালোভাবে অভিহিত করেছেন। তিনি নিজের বক্তব্যে লিখেছেন যে, আমরা এই ধরনের সমস্ত অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছি। অথচ অত্যন্ত অবাক করার বিষয় হলো, প্রতিবেদনটির লেখক এই সমস্ত দাবির পক্ষে ন্যূনতম প্রমাণের একটি টুকরোও উপস্থাপন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।

কুশনারের মতে, এই ধরনের অত্যন্ত গুরুতর সব অভিযোগের সমর্থনে কোনো ধরনের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অর্থ স্থানান্তরের কোনো লিখিত নথি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, লেনদেনের সুনির্দিষ্ট তারিখ কিংবা অন্য কোনো যাচাই করা যায় এমন তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, প্রতিবেদনে ঠিক যে নির্দিষ্ট সময়ের কথা বলা হয়েছে, সেই সময়ে তিনি বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা অল্প কয়েকজন ব্যক্তির ঠিক একজন ছিলেন।

সেই নির্দিষ্ট সময়টিতে তাঁকে সংবাদমাধ্যমের চরম ও ব্যাপক নজরদারি, মার্কিন কংগ্রেসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত এবং পাশাপাশি বিশেষ কাউন্সেলের কঠোর তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। কুশনার নিজের বক্তব্যে বলেছেন যে, তিনি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এই সমস্ত তদন্ত প্রক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করেছেন এবং দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, সেই সময় এই ধরনের কোনো অভিযোগ কখনো সামনে আসেনি, কারণ বাস্তবে এমন কোনো ঘটনাই কখনো ঘটেনি।

এদিকে কুশনারের ব্যক্তিগত আইনজীবী চ্যাড মিজেলও গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই সমস্ত অভিযোগগুলোকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে শক্ত ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া নিজের একটি পৃথক পোস্টে তিনি লিখেছেন যে, এগুলো কোনোভাবেই ব্যাখ্যার ভিন্নতা কিংবা ভিন্ন ভিন্ন স্মৃতির কোনো বিষয় নয়। বাস্তবে এমন কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টই নেই এবং সেগুলোর কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যাবে না।

আইনজীবী চ্যাড মিজেল আরও যোগ করেন যে, এগুলো অত্যন্ত গুরুতর এবং একই সঙ্গে মানহানিকর কিছু অভিযোগ, যেগুলোর পক্ষে বিন্দুমাত্র সমর্থন জোগানোর মতো এক টুকরো প্রমাণও কারও কাছে নেই। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক সাধারণ ব্যবহারকারী আইনজীবী মিজেলকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি প্রশ্ন করেন যে, আপনারা কি এই বিষয়ে কোনো আইনি মামলা করতে যাচ্ছেন? সেই প্রশ্নের সরাসরি জবাবে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় লিখে জানিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে তাদের সমস্ত আইনি বিকল্পই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
চাঁদপুরে আগুনে পুড়ল ৭ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

চাঁদপুরে আগুনে পুড়ল ৭ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান