
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
একাধিক সাধারণ মানুষ নামজারি এবং অন্যান্য ভূমিসেবা পাওয়ার জন্য আব্দুল মোতালেবের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন। সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, সমস্ত বৈধ কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরেও বিভিন্ন অছিলায় আবেদনপত্র আটকে রাখা হতো। মাঝে মাঝে অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্রের চাহিদা জানানো হতো অথবা সামান্য ভুল ধরে আবেদন বাতিল করা হতো। পরবর্তীতে নির্ধারিত পরিমাণে উৎকোচ প্রদান করলেই কেবল দ্রুত সেবা পাওয়া যেত।
তদন্তে সম্পূর্ণ অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি কেন, এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা জানান যে, কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বিষয়টি এমন নয়। সরকারি প্রক্রিয়া সবসময় বাহ্যিকভাবে দৃশ্যমান হয় না বলে উল্লেখ করে তিনি বিস্তারিত জানার জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আলী জানান যে, কোনো সরকারি চাকুরের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া মেনে চলতে হয়, যা মূলত বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তিনি আরও শুনেছেন যে অভিযুক্ত আব্দুল মোতালেব নিজে থেকেই চাকরি থেকে অব্যাহতির জন্য আবেদন করেছেন। তাঁর মতে, চাকরি ছেড়ে দেওয়াটাই একটি বড় শাস্তি এবং তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান থাকতে পারে।
তদন্ত চলাকালীন সময় কিংবা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পরও কেন অভিযুক্ত আব্দুল মোতালেবকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো না, সে বিষয়ে মোহাম্মদ আলীর বক্তব্য হলো, কোনো অপরাধ সরাসরি হাতেনাতে প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা সম্ভব। তবে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত শেষ হওয়ার পর বিভাগীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে, যার জন্য কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়।