
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
স্ট্র্যান্ডের মতে, সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো ছোট আকারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেলগুলোর ক্ষমতাও বড় ও অত্যাধুনিক মডেলগুলোর সমকক্ষ। এগুলো কেবল কাজ সম্পন্ন করতে একটু বেশি সময় নিয়ে থাকে। অন্তত ১২৮ গিগাবাইট মেমোরির সিস্টেমে কার্যকর এই ছোট মডেলগুলোকেও হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এগুলো দ্রুতগতির না হলেও নিরাপত্তা কর্মীদের সবসময় সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে হবে।
কম্পিউটার এবং স্মার্টফোনে এআই মডেলের নিজে থেকেই অনুলিপি তৈরি করার সক্ষমতা এক অভূতপূর্ব ও অপ্রত্যাশিত বিপদের সৃষ্টি করেছে। তবে এই ঝুঁকি শুধু ব্যক্তিগত কম্পিউটার কিংবা মুঠোফোনে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত সব ধরনের ডিভাইসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। রিজ সিকিউরিটি টেকনোলজির কারিগরি পরিচালক ড্যারিন ফ্রেডি জানান, এতদিন সবাই ধারণা করত যে স্মার্ট টিভি কেবল বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। কিন্তু সামনের দিনে এই সাধারণ স্মার্ট টিভিই হয়তো বড় কোনো সাইবার হামলার অংশ হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মূল প্রশ্নটি এটি নয় যে এআই নিজে নিজে চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে কি না, বরং আসল প্রশ্ন হলো এটি কোনো যন্ত্রের ভেতরে প্রবেশ করার পর কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে? এটি কি নতুন কোনো যন্ত্র খুঁজে বের করতে সক্ষম হবে? নিরাপত্তা প্রাচীর ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে? এবং কোনো ধরনের কেন্দ্রীয় সার্ভার ছাড়াই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে কি না?
ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত দৈনন্দিন ব্যবহারের যন্ত্রগুলোতে অর্থাৎ আইওটিতে এআইয়ের এই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা সম্পূর্ণ নতুন ধরনের নিরাপত্তা ও আইনি জটিলতার জন্ম দেবে। কারণ এই ডিভাইসগুলো কোনো ধরনের ডেটা সেন্টারের ওপর নির্ভর না করেই আস্ত নেটওয়ার্ককে হামলার অস্ত্র বানিয়ে ফেলতে পারে। কারবেরির ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ চার দশক ধরে নেটওয়ার্ককে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, আর বর্তমানে সেই ভয়ংকর ওয়ার্মকেই মিটিং রুমের স্মার্ট ডিসপ্লের মাধ্যমে নিজের ঘরে ডেকে আনা হচ্ছে।