
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
খোলা বাজারে বিক্রি তথা ওএমএস কর্মসূচিতে চাল ও আটার বরাদ্দ হ্রাসের সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তের কারণে কম আয়ের মানুষগুলোকে হয় খাদ্যের পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে নতুবা পুষ্টির মান নামিয়ে আনতে বাধ্য হতে হবে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের ওপর এই পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি মাত্রায় পড়তে পারে।
খাদ্যের পেছনে বাড়তি খরচ জোগাতে গিয়ে পরিবারগুলোকে চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষার মতো খাতের ব্যয়ও কমাতে হতে পারে। এমনকি এর ফলে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কাও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। উল্লেখ্য, খোলা বাজারে বিক্রির এই কার্যক্রম বাজারে চালের দর স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
গত এক সপ্তাহ ধরে রাজধানী ঢাকার বাজারে মাঝারি ও মোটা চালের দাম কেজিতে এক থেকে দুই টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সংকটকালীন মুহূর্তে যদি সরকারি সরবরাহ বা জোগান কমে যায়, তবে তা সামগ্রিক বাজার মূল্যের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ বা খানি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করা হয়েছে। প্রথমত, ওএমএস কার্যক্রমে চাল ও আটা বিক্রির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা এবং ভর্তুকির আর্থিক বরাদ্দ ন্যূনতম গত অর্থবছরের স্তরেই বহাল রাখতে হবে। সেই সঙ্গে চলমান মূল্যস্ফীতির বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে এই বরাদ্দ যথাযথভাবে সমন্বয় করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এবং বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলগুলোর শ্রমিক-অধ্যুষিত এলাকা ও বস্তিগুলোতে ওএমএস বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, ডিলারদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিজিটাল নজরদারি এবং কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।
চতুর্থত, জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত মানুষ, শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের সুরক্ষায় নির্দিষ্ট নগর সামাজিক সুরক্ষা কৌশল প্রণয়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে একটি সমন্বিত ও অধিকারভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার ওপরও বিশেষ জোর দিয়েছে সংগঠনটি।