
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ওঠা সমালোচনার মূল সুর হলো যে দেশটির সরকারের গৃহীত বিশেষ কৌশলের ফলেই অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হামাসের শাসন দীর্ঘস্থায়ী হতে পেরেছিল। এর পাশাপাশি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বা পিএ এবং হামাস সংগঠনের পারস্পরিক রাজনৈতিক দূরত্ব জিইয়ে রাখাটাও এর মাধ্যমে সহজতর হয়েছিল বলে মনে করেন সমালোচকেরা। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে আনীত এ ধরনের সব অভিযোগ বরাবরই দৃঢ়ভাবে খারিজ করে এসেছেন শীর্ষ এই ইসরায়েলি নেতা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টাইম সাময়িকীকে দেওয়া ২০২৪ সালের একটি সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে দাবি করেছিলেন যে গাজার সাধারণ মানুষ যাতে প্রশাসনিক বিপর্যয়ের মুখে না পড়ে এবং সেখানকার পানীয় জল সরবরাহ, স্যানিটেশন ব্যবস্থা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো অপরিহার্য নাগরিক সেবাগুলো সচল থাকে, মূলত সেই মানবিক ও সামাজিক তাগিদেই দোহা থেকে আসা ওই তহবিল ছাড়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু সাম্প্রতিক এই অনুসন্ধানী নথিপত্র এবং তদন্তের প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর সরকারি দপ্তর থেকে নতুন করে আর কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। কাতার থেকে আসা ওই অর্থ সরাসরি গত ৭ অক্টোবরের আকস্মিক হামলায় ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তদন্তে পাওয়া কাগজপত্রে সেটির সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ মেলেনি। তা সত্ত্বেও এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে গাজার সাধারণ জনতাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হলে সেখানে একধরনের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং একই সঙ্গে হামাসকেও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে—এমন একটি সুনির্দিষ্ট কৌশলগত চিন্তাভাবনা থেকেই ইসরায়েল প্রশাসন এগোচ্ছিল।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম টাইমকে দেওয়া মন্তব্যে বলেন যে এই উদ্যোগটি হয়তো শুরুতে বেশ ভালো কোনো উদ্দেশ্য নিয়েই যাত্রা শুরু করেছিল, কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন মেয়াদের একাধিক প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে চলতে থাকা এই নীতিটি শেষ পর্যন্ত তাদের দেশের জন্য একটি বিশাল মাপের শোচনীয় ব্যর্থতা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি আরও যোগ করে স্পষ্ট করেন যে এই পুরো বন্দোবস্ত ও প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু স্বয়ং অবস্থান করতেন, তিনিই এই কার্যক্রমকে সামনে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, এর গতি ত্বরান্বিত করেছেন এবং সার্বিক বিষয়টি তদারকি করার মূল দায়ভারও তাঁর সরকারের ওপরই বর্তায়।