
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
উৎসবের নানা আয়োজনে যখন চারপাশ মুখর হয়ে ওঠে, তখন সমাজের কিছু মানুষের জীবনে উৎসব আসে না কেবল অভাবের কারণে। তাদের এই দীর্ঘশ্বাস দূর করে মুখে হাসি ফোটাতে এগিয়ে এসেছে ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মের তরুণদের নিয়ে গঠিত সংগঠন ‘সনাতন বন্ধুরা সনাতন মানুষের পাশে’।
শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে এই সংগঠনের তরফ থেকে সারা দেশে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার পথ ভ্রমণ করা হয়েছে। ১৩টি জেলার মোট ৬৭০ জন সুবিধাবঞ্চিত ও নিরানন্দ মানুষের হাতে নতুন পোশাক উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়।
গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন সংগঠনটির মুখপাত্র রাজীব মজুমদার। তিনি জানান যে গত ২০ আগস্ট থেকে সংগঠনের সদস্যদের ব্যক্তিগত অর্থায়নে তহবিল গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।
এর ধারাবাহিকতায় গত ৮ অক্টোবর থেকে দেশের বিভিন্ন দূরবর্তী অঞ্চলে উপহারসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার অভিযান শুরু হয়। হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনার পাইকগাছা, ফেনী, রংপুর, কক্সবাজার, গাইবান্ধা, নারায়ণগঞ্জ, সন্দ্বীপ, নড়াইল, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ এবং টাঙ্গাইল জেলায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সংগঠনের কর্মীরা প্রত্যন্ত অঞ্চল, পাহাড়ি চা বাগান এলাকা, সুন্দরবনসংলগ্ন অবহেলিত জনপদ এবং নদীতীরবর্তী চরে সরাসরি উপস্থিত হন। এসব স্থানে ঘুরে ঘুরে মোট ৪২০টি শাড়ি এবং ২৫০টি লুঙ্গি বিতরণ করা হয়।
সংগঠনের সক্রিয় সদস্য প্রশান্ত ভৌমিক, সঞ্জয় সাহা, শুশাংকর মণ্ডল, অমিত ভূঁইয়া, কল্যাণ সরকার, জীবন দাশ ও সজল সাহারা জানিয়েছেন যে বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল ছাড়াই কেবল নিজেদের ভালোবাসার টানে তারা দুই হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন।
দিনরাত পরিশ্রম করে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের বাড়িতে গিয়ে তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনেছেন এই তরুণেরা এবং তাদের হাতে শারদীয় শুভেচ্ছা পৌঁছে দিয়েছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগের চেয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব, এটি তারই একটি দারুণ উদাহরণ।
মুখপাত্র রাজীব মজুমদার উল্লেখ করেন যে একা একজন হয়তো দশজনকে সাহায্য করতে পারেন, তবে সবাই মিলে হাত বাড়ালে তার পরিধি অনেক বেড়ে যায়। সমাজের সচেতন ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে কোনো উৎসবই আর মলিন বা নিরানন্দ থাকবে না বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
সংগঠনের আরও কয়েকজন সদস্য—শ্রাবণী সাহা, শিবেন রয়, সজীব দাস, তুহিন ও শ্যামলীদের ভাষ্যমতে, এই উদ্যোগ কেবল পোশাক দেওয়ার বিষয় নয়, বরং এটি নিখাদ ভালোবাসার আদান-প্রদান।
দেশ ও বিদেশের অসংখ্য সদস্য এই মহৎ উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন, যার মধ্যে দুবাইপ্রবাসী মৃত্যুঞ্জয়, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী চম্পা এবং ওমানপ্রবাসী অজিতও রয়েছেন। তাদের এই যৌথ প্রয়াস প্রমাণ করে যে ভৌগোলিক দূরত্ব বা সীমাবদ্ধতা মানুষের সেবার ক্ষেত্রে কোনো বাধা হতে পারে না।
মহালয়ার পর যখন পূজামণ্ডপে ঢাকের আওয়াজ শোনার অপেক্ষা চলছে, ঠিক তখন সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী গ্রাম বা চা বাগানের প্রবীণ মানুষের কাছে নতুন শাড়ি বা লুঙ্গি পাওয়া মানে বিরাট প্রাপ্তি। ‘সনাতন বন্ধুরা’র এই মানবিক উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করে যে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই উৎসবের প্রকৃত আনন্দ উপভোগ করা উচিত।