
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও ওয়াজ মাহফিল আয়োজনের কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে রিপন মিয়া নামের এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ ও নিহতের পরিবারের ভাষ্যমতে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্ববিরোধ এবং এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের সংঘাত কাজ করেছে।
গত রোববার রাতের দিকে উপজেলার ভোলাব ইউনিয়নের পাইস্কা কুলি মার্কেট এলাকায় এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত ৪২ বছর বয়সী রিপন মিয়া পাইস্কা এলাকার শহিদুল্লাহ মিয়ার সন্তান ছিলেন এবং পেশাগতভাবে কাঠ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ভোলাব ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (গ- সার্কেল) মেহেদী হাসান গণমাধ্যমকে জানান, এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখা এবং ওয়াজ মাহফিলের আয়োজক কমিটিতে নাম রাখাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের পরিণামেই এই খুন হয়েছে। অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রিপনের সঙ্গে রিফাত কাজীর দীর্ঘদিন ধরে শত্রুতা ছিল। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ওয়াজ মাহফিলের কমিটিতে রিপনের নাম না থাকা নিয়ে রাত এগারোটার দিকে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর প্রায় ত্রিশ মিনিট পর রিফাত কাজীর নেতৃত্বে অর্ধশত থেকে ষাট জনের একটি দল রামদা, ছুরি এবং লোহা ও স্টিলের পাইপ নিয়ে রিপনের বাড়িতে চড়াও হয়।
হামলাকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার একপর্যায়ে রিপন মিয়াকে নৃশংসভাবে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসতে শুরু করলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
নিহতের ছেলে শাওন মিয়া জানান, গত ৬ ও ৭ অক্টোবর স্থানীয় যুবসমাজের আয়োজনে পাইস্কায় ওয়াজ মাহফিল হয়, যার কমিটিতে তাঁর বাবা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ছিলেন। কমিটিতে নিজেদের নাম না থাকায় রিফাত ও তাঁর লোকজন ক্ষুব্ধ ছিলেন। মাদকবিরোধী অবস্থানের কারণেও তাঁর বাবার ওপর প্রতিপক্ষ আগে থেকেই অসন্তুষ্ট ছিল। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে অভিযুক্ত রিফাত কাজীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনার পর থেকেই তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে তথ্য মিলেছে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন জানান, পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।