
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
১৯০১ সালে বিশিষ্ট আধ্যাত্মিক সাধক স্বামী বিবেকানন্দ কলকাতার বেলুড় মঠে প্রথম কুমারীপূজার প্রবর্তন করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক ধারা বজায় রেখে প্রতিবার দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমী তিথিতে এই বিশেষ পূজার আয়োজন করা হয়ে থাকে।
প্রাচীন দেবীপুরাণে কুমারীপূজার বিস্তারিত নির্দেশনা রয়েছে। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, এক থেকে ষোলো বছর বয়সি পুণ্যলক্ষণযুক্ত যেকোনো কুমারী কন্যাকে এই আরাধনার জন্য নির্বাচন করা যায়।
শাস্ত্রমতে কেবল ব্রাহ্মণ পরিবারের অবিবাহিত কন্যাসন্তানই নয়, বরং অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যারাও এই পূজায় অংশ নিতে পারে।
অন্যদিকে, গত সোমবার সকালেই রাজধানী ঢাকার ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সন্ধিপূজা সম্পন্ন হয়।
এই বিশেষ পূজার আচার হিসেবে দেবীর শ্রীচরণে একশো আটটি তাজা পদ্মফুল এবং সমপরিমাণ বেলপাতা অর্পণ করা হয়।
পাশাপাশি মা দুর্গার আরাধনায় ভক্তরা দেবীর সামনে একশো আটটি প্রদীপ প্রজ্বালন করেন।
মহানগর কেন্দ্রীয় পূজা মণ্ডপের পুরোহিত বরুণ চক্রবর্তী সংবাদমাধ্যমকে জানান, অষ্টমী তিথির শেষ চব্বিশ মিনিট এবং নবমী তিথির শুরুর চব্বিশ মিনিট—এই মোট আটচল্লিশ মিনিটের সময়সীমায় সন্ধিপূজা সম্পন্ন হয়ে থাকে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই পবিত্র পূজার মূল উদ্দেশ্য হলো পৃথিবী থেকে সমস্ত অশুভ শক্তির বিনাশ সাধন করা।
এছাড়াও এর মাধ্যমে সমাজে শুভ শক্তির বিজয় নিশ্চিত করা এবং সমগ্র দেশ ও জাতির সার্বিক শান্তি ও কল্যাণ প্রার্থনা করা হয়।