
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
প্রায় নব্বই বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা ঐতিহাসিক রহস্যের সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে গবেষকদের সাম্প্রতিক অভিযান। গবেষণা প্রকল্পের প্রধান রিক পেট্রিগ্রিউ মন্তব্য করেছেন যে, এই দ্বীপটি যেন তার নিজস্ব গোপনীয়তা কঠোরভাবে রক্ষা করে চলেছে। তবে সুদীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা এই রহস্যের একদিন চূড়ান্ত সত্য উদঘাটিত হবে এবং নিখোঁজ বিমানটির সন্ধান মিলবে বলে তিনি আশাবাদী।
১৯৩৭ সালে বিশ্বভ্রমণের উচ্চাভিলাষী অভিযানে বেরিয়ে হঠাৎ করেই গায়েব হয়ে যান প্রখ্যাত বৈমানিক অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্ট ও তাঁর সহযোগী ফ্রেড নুনান। সে সময় দুই ইঞ্জিনের লকহিড ইলেকট্রা নামক বিমানে চেপে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে তাঁরা দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়া মহাদেশ অতিক্রম করে পৌঁছান পাপুয়া নিউগিনির লাই শহরে। সেখান থেকে হাওয়াই দ্বীপের ওপর দিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের।
তবে বিমানটিতে জ্বালানি ভরার উদ্দেশ্যে হাউল্যান্ড দ্বীপের দিকে পাড়ি জমানোর পথেই ঘটে বিপত্তি এবং বিমানটি নিখোঁজ হয়ে যায়। উল্লেখ্য, নিকুমারোরো দ্বীপ থেকে হাউল্যান্ড দ্বীপের ভৌগোলিক দূরত্ব প্রায় ৬৪৪ কিলোমিটার। প্রচলিত একটি তত্ত্ব অনুযায়ী, দিকভ্রান্ত হয়ে অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্ট বাধ্য হয়ে নিকুমারোরো দ্বীপে জরুরি অবতরণ করেছিলেন এবং সেখানেই তাঁর জীবনাবসান ঘটেছিল।
এই অনুমানের ওপর ভিত্তি করে গবেষক দলটি সুমদ্রপথে টানা পাঁচ দিন ভ্রমণ করে অবশেষে নির্দিষ্ট দ্বীপে উপস্থিত হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে হয় তাঁদের, যার ফলে নির্ধারিত সময়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করতেও কিছুটা দেরি হয়। পরবর্তীতে সব বাধা পেরিয়ে মাত্র চার দিন ধরে সেখানে সরেজমিন তদন্ত চালানো হলেও এবারের অভিযানেও ইয়ারহার্টের নিখোঁজ হওয়ার নেপথ্যের রহস্যের কোনো নিশ্চিত কুলকিনারা হয়নি।