
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
গত শনিবার দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়, যেগুলোর একটির ভেতর প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল মজুদ ছিল বলে জানিয়েছে আইআরজিসি। এর পরপরই গত রোববার রাতে আরও একটি ট্যাংকারের ওপর আক্রমণ ঘটে। তবে ঠিক কতগুলো জাহাজ মাইন বিস্ফোরণ কিংবা গোলাবর্ষণের শিকারে পরিণত হয়েছে, সেই হিসাব নিয়ে নানা মতপার্থক্য রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টারের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত শেষ হওয়া এক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ২৫৪টি জাহাজ চলাচল করতে দেখা গেছে। সংঘাত শুরুর আগের স্বাভাবিক পরিস্থিতির তুলনায় এই চলাচল প্রায় ৭০ শতাংশের মতো কমে গেছে।
চলমান এই সংঘাতের কারণে কেবল বাণিজ্য নয়, বরং সামুদ্রিক পরিবেশও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। ভারতের চেন্নাইস্থিত আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দেবরাজ আসির রমেশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়া, বিষাক্ত বর্জ্যের বিস্তার এবং বিভিন্ন বিস্ফোরণের বিকট শব্দ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, মৎস্যসম্পদ এবং সামগ্রিক জলজ প্রাণীর অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করতে পারে।
বিশেষ করে ডলফিন ও শুশুকের মতো সংবেদনশীল জলজ প্রাণী পানির নিচের এই তীব্র শব্দের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে গত শুক্রবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত বিপর্যয়কে ‘ইকোসাইড’ বা পরিবেশবিনাশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত কার্যকর সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।