
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
গত আগস্ট মাসে দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা ও অন্যান্য লেনদেন আগের মাসের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। এর আগের মাস জুলাইয়ে এই খাতে চার হাজার ৩২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা খরচ হলেও, আগস্ট মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৮৯ কোটি ৩০ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে অভ্যন্তরীণ লেনদেন কমেছে পাঁচ দশমিক ৪৪ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে।
অভ্যন্তরীণ বাজারে আগস্ট মাসে যত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার হয়েছে, তার প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৪৮ দশমিক ১৪ শতাংশই খরচ হয়েছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোতে। এছাড়া রিটেইল আউটলেটে ১২ দশমিক ৬৭ শতাংশ, ইউটিলিটি বা সেবামূলক বিল পরিশোধে ১০ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং ওষুধপত্র ও ফার্মেসিতে ছয় দশমিক ৯৪ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। পাশাপাশি, কার্ড থেকে নগদ অর্থ উত্তোলনে ব্যয় হয়েছে মোট ছয় দশমিক ৪৩ শতাংশ।
সামগ্রিক খাতের কিছু উপখাতে আবার লেনদেন বাড়ার প্রবণতাও লক্ষ্য করা গেছে। যেমন রিটেইল আউটলেটগুলোতে এই সময়ে খরচ চারশ সতাআশি কোটি ৯০ লাখ টাকা থেকে বেড়ে পাঁচশ আঠারো কোটি ৩০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন সেবামূলক বিল, চিকিৎসাসামগ্রী, পোশাক এবং যাতায়াত বা পরিবহন খাতেও কার্ডভিত্তিক লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষ নাগাদ পুরো দেশে ডেবিট কার্ডের সংখ্যা ছিল দুই কোটি ৪২ লাখ ২৫ হাজারটি। একই সময়ে ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ১৭ লাখ ৬৩ হাজার এবং প্রিপেইড কার্ডের সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ২৭ হাজারটি। পরবর্তীতে পাঁচ বছরের ব্যবধানে অর্থাৎ ২০২৬ সালের আগস্ট মাস নাগাদ এই কার্ডগুলোর সংখ্যা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৬ সালের আগস্টে ডেবিট কার্ড বেড়ে চার কোটি ৮৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ২৮ লাখ ৫ হাজার এবং প্রিপেইড কার্ডের সংখ্যা বেড়ে ৯২ লাখ ৭১ হাজারে উন্নীত হয়েছে। গত পাঁচ বছরের এই ব্যবধানে সব ধরনের প্লাস্টিক কার্ডের ব্যবহার ও সংখ্যা ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, আর এই মাধ্যমগুলোতে সার্বিক লেনদেন বেড়েছে ১০৩ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে প্রিপেইড কার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সর্বশেষ আগস্ট মাসের হিসাব অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো কর্তৃক ক্রেডিট কার্ডধারীদের বিপরীতে মোট অনুমোদিত ঋণসীমার পরিমাণ ছিল ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। এর বিপরীতে গ্রাহকদের মোট বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৪৮২ কোটি টাকায়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সংবাদমাধ্যমকে জানান, নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল বা মাধ্যমভিত্তিক লেনদেন জনপ্রিয় করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারাবাহিক নানা পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাধারণ কার্ড ব্যবহারের পাশাপাশি বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেনের পরিধি সম্প্রসারণের বিশেষ উদ্যোগও চলমান রয়েছে।