
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিজ্ঞান আর ম্যাজিকের মেলবন্ধন রয়েছে অনেক সাধারণ ঘটনার মাঝেও। বিখ্যাত লেখক মার্টিন গার্ডনারের ‘সায়েন্স ম্যাজিক’ গ্রন্থে এ ধরনের অসংখ্য চিত্তাকর্ষক কৌশলের বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কেউ আপনার হাতে একটি ডিম দিয়ে যদি জানতে চায় এটি কাঁচা নাকি সেদ্ধ, তখন প্রারম্ভিক পর্যায়ে একটু ঝাঁকিয়ে সেটি অনুমানের চেষ্টা করা যেতে পারে। কেননা, একটি কাঁচা ডিমের ভেতরকার কুসুম এবং এর আশপাশের তরল পদার্থ সহজেই নড়াচড়া করতে পারে।
তবে এই বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিমটিকে কোনো কঠিন ও সমতল পৃষ্ঠের ওপর রেখে ঘোরানোর বা স্পিন করার চেষ্টা করতে হবে। সেদ্ধ করা ডিম বেশ ভালো ও দ্রুত গতিতে ঘুরতে সক্ষম হলেও, কাঁচা ডিম ঘোরানোর কাজটি তুলনামূলকভাবে বেশ কঠিন। এই পরীক্ষাটির মাধ্যমে ডিমের প্রকৃত অবস্থা কিছুটা অনুমান করা সম্ভবপর হয়।
এর পরও যদি কারো মনে সন্দেহের অবকাশ থাকে, তবে পরীক্ষণের চূড়ান্ত পর্যায়ে ডিমটিকে প্রথমে বেশ জোরে ঘোরাতে হবে এবং এরপর একটি আঙুলের মৃদু চাপে সেটির ঘূর্ণন থামিয়ে দিতে হবে। সেদ্ধ ডিমের ক্ষেত্রে আঙুলের সামান্য স্পর্শেই ঘূর্ণন প্রায় পুরোপুরি থেমে যাবে এবং ডিমটি সম্পূর্ণ স্থির হয়ে অবস্থান করবে।
পক্ষান্তরে, পরীক্ষাধীন ডিমটি যদি কাঁচা হয়, তবে আঙুলের চাপে ঘূর্ণন সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার পরও সেটি অত্যন্ত মৃদুভাবে নড়তে থাকবে। এর কারণ হলো, বাহ্যিক ঘূর্ণন থেমে যাওয়ার পরেও কাঁচা ডিমের অভ্যন্তরে থাকা তরল পদার্থ নিজস্ব গতিতে ঘুরতে থাকে, যা ডিমটিকে একদম স্থির হতে বাধা দেয়। এই বিশেষ লক্ষণ দেখে খুব সহজেই বুঝে নেওয়া সম্ভব যে ডিমটি আসলে কাঁচা ছিল।