
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পুঁজিবাজারের চারটি নির্দিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা করে অর্থ ফেরতের ঘোষণা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
সোমবার অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে সভাপতিত্ব করেছেন কমিশনের চেয়ারম্যান মাসুদ খান। পরবর্তী সময়ে বিএসইসির প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
যে চারটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিগ্রস্তরা এই সুবিধা পাবেন, সেগুলো হলো বাংকো সিকিউরিটিজ লিমিটেড, তামহা সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড।
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর যেসব বিনিয়োগকারীর দাবি ইতিমধ্যে যাচাই করা হয়েছে এবং যা এখনো অমীমাংসিত রয়েছে, তাদের অনুকূলেই এই অর্থ ছাড় করা হবে।
এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের শিকার গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছিল।
ওই কার্যক্রমে প্রথম ধাপে মশিউর সিকিউরিটিজের সঙ্গে জড়িত ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারীদের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়।
বাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, জালিয়াতি এবং অর্থ আত্মসাতের ঘটনার কারণে খেলাপি হওয়া মোট পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউসের প্রায় ১৭ হাজার ৩৩২ জন বিনিয়োগকারীর ৭২ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে, যা পরিশোধ করবে ডিএসই।
অন্যদিকে, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আত্মপ্রকাশ করতে যাওয়া কমোডিটি এক্সচেঞ্জে ব্যবসা পরিচালনার জন্য নতুন করে ছয়টি ব্রোকারেজ হাউসকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
বিএসইসির সাম্প্রতিক ওই বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয় এবং নতুন অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সোহেল সিকিউরিটিজ, আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ, এনএলআই সিকিউরিটিজ, বি রিচ, পিএইচপি স্টকস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ এবং ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ।
অনুমোদনপ্রাপ্ত এসব ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) অধীনে যাত্রা শুরু করতে যাওয়া কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বাজারে সরাসরি লেনদেন করা সম্ভব হবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বাজারে অংশগ্রহণকারী ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে এবং আগামী বছরের মধ্যেই সিএসইতে কমোডিটি এক্সচেঞ্জের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।