
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পুঁজিবাজারে মানসম্মত ও শক্তিশালী কোম্পানির প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে নতুন একটি বিধিমালা চালু করা হয়েছে। এটিকে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক এক্সচেঞ্জে সিকিউরিটিজের ডাইরেক্ট লিস্টিং) বিধিমালা, ২০২৬’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। গত ১৮ অক্টোবর এটি সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় এবং একই সঙ্গে কার্যকর করা হয়।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান এ বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে সরাসরি তালিকাভুক্তির এই পদক্ষেপটি বেশ ভালো। এর মাধ্যমে সাধারণ ও জীবন বীমা করপোরেশনের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং জ্বালানি খাতের স্বনামধন্য কোম্পানির পাশাপাশি বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোও শেয়ার বাজারে আসার সুযোগ পাবে।
প্রণীত নতুন এই বিধিমালা অনুযায়ী বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান, পূর্ণাঙ্গ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি এবং যে সমস্ত কোম্পানিতে সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অংশীদারত্ব কমপক্ষে ১০ শতাংশ রয়েছে। পাশাপাশি সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোও এর জন্য আবেদন করতে পারবে।
এছাড়া শেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে সর্বনিম্ন ৫০০ কোটি টাকার নিট সম্পদ থাকা সাপেক্ষে তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্তির উপযুক্ত বিবেচিত হবে। যে সকল কোম্পানির বার্ষিক টার্নআউটের পরিমাণ কমপক্ষে ১ হাজার কোটি টাকা, তারাও এই প্রক্রিয়ায় আবেদন করার যোগ্যতা অর্জন করবে।
এদিকে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান নির্ধারণের জন্য নতুন এই বিধিমালায় নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও সীমার কথাও স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে। সরাসরি তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে ইচ্ছুক কোম্পানিকে কমপক্ষে পাঁচ বছর যাবত তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
শর্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্ববর্তী দুটি অর্থবছরে মূল ব্যবসা থেকে অবশ্যই মুনাফা অর্জিত হতে হবে এবং কোনো ধরনের পুঞ্জীভূত লোকসান থাকতে পারবে না। এ ছাড়া সর্বশেষ অর্থবছরে কোম্পানির পরিচালন কার্যক্রম থেকেও ইতিবাচক নগদ প্রবাহ বা পজিটিভ ক্যাশ ফ্লো থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।