
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বলিউড তারকা টাইগার শ্রফের ব্যক্তিগত গাড়িকে লক্ষ্য করে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি বর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তিনজনকে পাকড়াও করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই অভিযাতের মুখে পড়া সন্দেহভাজনদের মধ্যে থাকা এক তরুণের মা সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি তুলেছেন যে, তাঁর সন্তানকে সুকৌশলে একটি গভীর জালে ফাঁসিয়ে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নামানো হয়েছে।
মঙ্গলবার হরিয়ানা রাজ্যের সোনিপত এলাকায় গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হন আটক হওয়া রেহানের মা শামশিদা। তিনি জোরালো ভাষায় দাবি করেন, তাঁর সন্তানকে সম্পূর্ণ ভুল বুঝিয়ে এবং মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে এই জঘন্য অপরাধের ফাঁদে নামানো হয়েছে।
শামশিদা আরও বিস্তারিত জানিয়ে বলেন যে, ঘটনার কিছুদিন পূর্বে একটি প্রাইভেটকারে করে অপরিচিত কিছু লোক তাঁদের বাড়িতে এসে উপস্থিত হয় এবং জোরপূর্বক রেহানকে বাড়ি থেকে সঙ্গে করে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই দীর্ঘ প্রায় বিশটি দিন ধরে তাঁর আদরের সন্তানের সঙ্গে পরিবারের কোনো রকম যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হয়নি।
এর আগে গত রোববার সন্ধ্যার দিকে মুম্বাইয়ের ব্যস্ত জুহু এলাকার একটি ফুটবল খেলার মাঠ থেকে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার মুহূর্তে হামলার শিকার হন অভিনেতা টাইগার শ্রফ। মোটর সাইকেলে চড়ে আসা তিনজন দুর্বৃত্ত হঠাৎ করেই তাঁর গাড়িটি ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে।
উক্ত অতর্কিত সশস্ত্র হামলায় অভিনেতা অক্ষত অবস্থায় বেঁচে গেলেও তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ির চালক এবং ঘটনাস্থলে থাকা একজন পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে জখম হন। পরবর্তীতে উপস্থিত লোকজন তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করান।
এই ঘটনার ঠিক পরের দিন অর্থাৎ সোমবার রাজস্থানের কোটা জংশন রেলস্টেশনে একটি চলন্ত ট্রেনে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে হামলাকারী সন্দেহে তিন অভিযুক্তকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
ধৃত তিন ব্যক্তির মধ্যে হরিয়ানার সোনিপত জেলার বাসিন্দা তরুণ রেহান ছাড়াও বিহারের বেগুসরাই এলাকার ঋত্বিক ওরফে রোশনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এর পূর্বে হামলা সংঘটিত হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা ছড়িয়ে পড়েছিল, যেখানে নিজেকে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই চক্রের সদস্য বলে দাবি করেছিলেন অনিল পণ্ডিত নামের এক ব্যক্তি।
ওই ভিডিও বার্তায় অনিল পণ্ডিত দাবি করেছিলেন যে, তাঁদের দলের নির্দেশ অমান্য করা এবং জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান খানের সঙ্গে নিয়মিত কাজ চালিয়ে যাওয়ার কারণেই মূলত টাইগার শ্রফকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে।
যদিও লরেন্স বিষ্ণোই চক্রের সেই দাবির সত্যতা সম্পর্কে পুলিশ এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত বার্তা দেয়নি। হামলাকারীদের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল এবং তাদের নেপথ্যে কোন শক্তিশালী চক্র কাজ করছে, তা উদ্ঘাটনে মুম্বাই পুলিশের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে।