
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় গবাদিপশুর জন্য ঘাস সংগ্রহ করা কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দুই দলের লোকজনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় স্থানীয় একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ কমবেশি কুড়িজন মানুষ আঘাত পেয়ে আহত হয়েছেন।
গতকালের মঙ্গলবার রাতে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কের সরাইল সদর উপজেলার অধীন বড্ডাপাড়া এলাকায় এই মারামারির ঘটনাটি ঘটে।
বিবাদের সূত্রপাত সম্পর্কে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গতকাল সকালের দিকে বড্ডাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন একটি নির্দিষ্ট জমিতে গবাদিপশুর ঘাস কাটতে উপস্থিত হন। সেই মুহূর্তে একই গ্রামের অপর দুই বাসিন্দা ফারুক মিয়া ও হুমায়ুন মিয়ার সঙ্গে তাঁর তীব্র কথা কাটাকাটি এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতকাল সন্ধ্যার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সালিস বৈঠকে বসেন।
বৈঠক চলাকালীন উভয়ের মাঝে কথা-কাতাকাটি শুরু হলে একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন হাতে টর্চলাইট জ্বালিয়ে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কের বড্ডাপাড়া অংশে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
রাতের বেলা প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ত্রিমুখী ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া অব্যাহত থাকে। ফলে সমগ্র এলাকায় গভীর আতঙ্ক বিরাজ করে এবং সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় ওই জনবহুল সড়কটিতে তীব্র ও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষের এই ঘটনায় মারামারিতে লিপ্ত দুই পক্ষের অন্তত কুড়িজন ব্যক্তি কমবেশি আহত হন।
খবর পেয়ে গতকাল রাত আটটার পর সরাইল থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
সংঘর্ষে আহত হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার করে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসালয়ে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসির দায়িত্বে থাকা মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, এই অপ্রীতিকর ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত অপরাধীদের খুঁজে বের করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।