
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পার্ক দে প্রিন্সেসে ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে খেলোয়াড়রা যখন টানেল দিয়ে মাঠে প্রবেশ করছিলেন, তখন এক গোলপোস্টের পেছনের গ্যালারিতে পিএসজি সমর্থকরা একটি বিশাল তিফো বা ব্যানার প্রদর্শন করেন। সেই ব্যানারে ফুটিয়ে তোলা দৃশ্যে দেখা যায় মুখোশ পরিহিত এক ব্যক্তি করাত দিয়ে বার্সেলোনার ব্যাজ কাটছেন। বার্সার জন্য সেখানে বার্তা ছিল ‘ম্যাসাকার, প্যারিসিয়ান স্টাইল’, যার ফুটবলীয় অর্থে দাঁড়ায় ‘নৃশংস ধ্বংসযজ্ঞ চালাও প্যারিসীয় কায়দায়।’
ব্যানারে ফুটিয়ে তোলা দৃশ্যপটের করাত থেকে ছিটকে পড়া স্ফুলিঙ্গ বোঝাতে আতশবাজিও পোড়ানো হয়। ইএসপিএনকে একটি সূত্র জানায় যে সেই ব্যানারটির প্রদর্শনী ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও আপত্তিকর। পিএসজির মাঠে চার গোলের বিপরীতে দুই গোল হজম করে হারের পর বার্সেলোনা এই বিষয়ে উয়েফার কাছে আনুষ্ঠানিক নালিশ করেছে।
তবে ক্লান্তি ও প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিককে অন্য সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। চ্যাম্পিয়নস লিগের ওই ম্যাচে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে ফ্লিক প্রথমে দলের ভুলের কথা উল্লেখ করেন এবং পরবর্তীতে সেই ভুলের পেছনের কারণ হিসেবে ক্লান্তি ও অপর্যাপ্ত প্রস্তুতির প্রসঙ্গ তোলেন।
মাঠের খেলায় খেলোয়াড়দের ক্লান্তির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, বিশেষ করে রক্ষণভাগের পারফরম্যান্সে। পিএসজি সেদিন বার্সার পোস্টে মোট ১৫টি শট নেয়, যা গত দশ বছরে কোনো অফিসিয়াল ম্যাচে বার্সেলোনার বিপক্ষে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে কাতালান দলটি প্রচুর বলের দখল হারায়।
ম্যাচ শেষে হান্সি ফ্লিক নিজের মূল্যায়নে জানান যে তারা অনেক ভুল করেছেন, বিশেষ করে বল দখলে রাখতে ব্যর্থ হয়ে সহজে বল হারিয়েছেন। তিনি বলেন, খেলোয়াড়রা তরতাজা না থাকায় এমন ভুল হয়েছে এবং গত কয়েক সপ্তাহে তাদের ওপর দিয়ে অবিশ্বাস্য ধকল গেছে, যার জন্য তিনি তাদের মানসিকতার প্রশংসা করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বার্সেলোনা দারুণ ফর্মে ছিল এবং সর্বশেষ এগারো দিনে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে চারটি ম্যাচ খেলেছে। ইউরোপের বর্তমান সময়ের সেরা দুটি দলের এই লড়াইয়ের আগে পিএসজি ছিল সর্বশেষ দুবারের চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী দল এবং বার্সাও এ মৌসুমে নিজেদের প্রথম এগারো ম্যাচে ৪৮ গোল করেছিল।
তবে প্রত্যাশিত মানের লড়াই উপহার দিতে না পারার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফ্লিক প্রস্তুতির ঘাটতির কথাও তুলে ধরেন। স্পেনে ঝড়ের কারণে গত শনিবার রিয়াল বেতিসকে হারানোর পর সেভিয়া থেকে তাদের ফিরতি ফ্লাইট বাতিল হয়, যার ফলে নির্ধারিত প্রস্তুতি পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় ক্লাবটি।
ফ্লিক আক্ষেপ প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে জানান যে বেতিস ম্যাচের পর যা ঘটেছে তা সবাই জানেন এবং তিনি কোনো অজুহাত না দেখিয়ে কেবল পরিস্থিতিটা বোঝাতে চেয়েছেন। খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে তাঁর কোনো অভিযোগ নেই এবং ম্যাচটিকে তিনি দারুণ বলে অভিহিত করেন।
প্রতিপক্ষ পিএসজির কোচ লুইস এনরিকে নিজের দলের পারফরম্যান্স নিয়ে বলেন যে তারা বেশ আগ্রাসী খেলেছেন। পেদ্রি, ইয়ামাল, ওলমো ও রাফিনিয়ার মতো মানসম্পন্ন খেলোয়াড়দের প্রেস করা যে কতটা কঠিন, তা উল্লেখ করে তিনি একে সর্বোচ্চ পর্যায়ের মুখোমুখি হওয়া বলে মন্তব্য করেন।
বার্সেলোনার পরবর্তী চ্যালেঞ্জ আসন্ন ‘এল ক্লাসিকো’, যেখানে আগামী রোববার রাতে লিগ টেবিলে তৃতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে তারা। বর্তমানে রিয়ালের চেয়ে ছয় পয়েন্ট এগিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে বার্সা।
এই ক্লাসিকো ম্যাচের কথা মাথায় রেখেই পিএসজির বিপক্ষে রদ্রিকে বিশ্রাম দিয়ে মূল একাদশে রাখেননি কোচ ফ্লিক। রাফিনিয়ার মনোযোগেও এখন রিয়ালের বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচটি রয়েছে, যে কারণে পিএসজির কাছে হারের পর দৃঢ় কণ্ঠে তিনি মন্তব্য করেন যে এই হার ক্লাসিকোয় তাদের সম্ভাবনার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।