
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অসংখ্য ডিএনএ অংশের মধ্য থেকে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে এসআরএসএফ ১ নামক জিন। জীবদেহে প্রোটিন গঠনের জিনগত নির্দেশনা প্রক্রিয়াজাতকরণ তথা স্প্লাইসিং অনুঘটক হিসেবে এটি কাজ করে থাকে।
বয়োবৃদ্ধ মানুষের ত্বকের কোষে যখন এই জিনটির অতিরিক্ত সক্রিয়তা ঘটানো হয়, তখন এক অভাবনীয় রূপান্তর লক্ষ্য করা যায়। টিস্যুগুলো নিজেদের মূল বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখেই বার্ধক্য প্রক্রিয়া, আমিষের ভারসাম্যহীনতা এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ থেকে মুক্তি পায়।
ত্বকের কোষের পাশাপাশি এই প্রক্রিয়ায় ডিএনএ পুনর্গঠন ও মেরামতের ক্ষমতাও বহুলাংশে উন্নত হয়। পরীক্ষাগারে মানব কোষের ওপর সফল প্রয়োগের পর গবেষক দলটি এর কার্যকারিতা সরাসরি যাচাই করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
পরীক্ষার অংশ হিসেবে এক বিশেষ ভাইরাসকে বাহক বা ভেক্টর হিসেবে কাজে লাগিয়ে বয়স্ক ইঁদুরের দেহে এসআরএসএফ ১ জিনটি প্রবেশ করানো হয়। জিনটি মূলত যকৃতে গিয়ে জমা হলেও এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পুরো জীবদেহের ওপর লক্ষ্য করা গেছে।
চিকিৎসাধীন ইঁদুরগুলোর ক্ষেত্রে বার্ধক্যজনিত শারীরিক শক্তি হ্রাস এবং সামগ্রিক অবনতির গতি ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত শ্লথ হয়ে পড়ে। পাশাপাশি, সাধারণ ইঁদুরের তুলনায় এদের গড় জীবনকাল ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়।
বিজ্ঞানীদের অভিমত, যকৃতে সংঘটিত এই জৈবিক পরিবর্তনগুলো সংকেত হিসেবে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বয়স বৃদ্ধির গতি রোধ করতেও জিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।