
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
নব্বই দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় দুই অভিনয়শিল্পী ওমর সানী ও বাপ্পারাজ বহু প্রজেক্টে একত্রে কাজ করার সুবাদে গভীর বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। ক্যামেরার পেছনের এই সম্পর্কে রয়েছে নিখাদ শ্রদ্ধা, বহু পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ এবং মজার সব রসিকতা। সম্প্রতি নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পাতায় এক পোস্টে এই সখ্যের নানা দিক জনসমক্ষে এনেছেন অভিনেতা ওমর সানী। সহকর্মীকে নিয়ে কথা বলার সময় যেমন তাঁর অর্জনের প্রশংসা করেছেন, তেমনি তাঁর স্বভাবসুলভ চঞ্চলতা ও মজার স্মৃতির কথাও তুলে ধরেছেন।
সদস্যদের মতো সম্পর্ক গড়ে ওঠা বাপ্পারাজ শুধু একজন সহকর্মী নন, ওমর সানী ও তাঁর স্ত্রী চিত্রনায়িকা মৌসুমীর অত্যন্ত প্রিয়ভাজন একজন মানুষ। রূপালি পর্দায় কাজের সুবাদে তাঁদের এমন এক আত্মিক যোগাযোগ তৈরি হয়েছে যেখানে তারকা পরিচয়ের চেয়ে ব্যক্তির ভালো গুণগুলো বড় হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে সহকর্মীকে একজন চমৎকার ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ, আদর্শ বন্ধু ও চঞ্চল মনের অধিকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন সানী।
প্রখ্যাত অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাকের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও বাপ্পারাজের মধ্যে বিন্দুমাত্র অহংকার দেখেননি বলে জানিয়েছেন তাঁর সহকর্মী। অতীতে একসঙ্গে কাজ করার সময় তাঁর এমন বিনয়ী আচরণ সানীকে বেশ বিস্মিত করত। জন্মসূত্রে বিখ্যাত পরিবারের সন্তান এবং নিজে প্রতিষ্ঠিত অভিনয়শিল্পী হওয়া সত্ত্বেও তিনি কেন অন্যদের সঙ্গে কাজ করবেন—এমন প্রশ্ন মনে আসলেও কাজের প্রতি তাঁর একনিষ্ঠতা দেখে সানী মুগ্ধ হতেন। দিন শেষে পেশাগত কাজটাই যে সবচেয়ে মুখ্য, সেই শিক্ষা তাঁরা পেয়েছিলেন।
চলচ্চিত্র জগতে কে কার চেয়ে উঁচু তলার কিংবা কার পারিবারিক পরিচয় কী—এসবের চেয়ে কর্মকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত, এমন মনোভাবই দুজনের মধ্যকার শ্রদ্ধাবোধ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রশংসা করতে গিয়ে ওমর সানী বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধুর নানা দুষ্টুমির কথা। সেকালের শুটিং সেটে বাপ্পারাজের হাসিখুশি ও কৌতুকপূর্ণ আচরণ কাজের পরিবেশকে সবসময় প্রাণোচ্ছল রাখত। বর্তমান যুগের ইন্টারনেটের কথা উল্লেখ করে মজার ছলে তিনি মন্তব্য করেন যে, সেই আমলেও যদি আজকের মতো মুঠোফোন বা সামাজিক মাধ্যম থাকত, তবে তাঁদের তখনকার সেই সব কর্মকাণ্ড নিশ্চয়ই ভাইরাল হয়ে যেত।
বন্ধুকে নিয়ে এমন রসিকতা মিশ্রিত স্মৃতিকথামূলক পোস্ট এটিই প্রথম নয়, এর আগেও ২০২৩ সালে সামাজিক মাধ্যমে বাপ্পারাজের প্রশংসা করে লিখেছিলেন সানী। সেবার তিনি নিজের ক্যারিয়ারের সফলতার পেছনে অবদান রাখা ব্যক্তিদের তালিকায় এই বন্ধুকে রেখেছিলেন এবং তাঁর মার্জিত মানসিকতা ও অভিনয়ের গুণের প্রশংসা করেছিলেন। এমনকি তাঁর সান্নিধ্যে গেলে নিজের বয়স যেন দুই দশক কমে বাইশ বছরের তরুণের মতো অনুভূত হয়, সেই অনুভূতির কথাও তিনি তখন প্রকাশ করেছিলেন।
সহকর্মীর ব্যক্তিগত জীবনের স্বচ্ছতার কথা উল্লেখ করে সানী তাঁর পোস্টে বন্ধুকে বিশেষ সম্মান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বাপ্পারাজের মতো মানুষের কোনো ধরনের বদভ্যাস নেই, বরং তাঁর সান্নিধ্যে এসে অন্যরাই নিজেদের ভুলত্রুটি বুঝতে পারে। এই শ্রদ্ধার প্রকাশের মাঝেও তাঁদের চিরচেনা বন্ধুত্বের খোশগল্প ও খুনসুটি বজায় রয়েছে। নিজ প্রজন্মের শিল্পী হিসেবে বাপ্পারাজকে নিয়ে নিজের গর্বের কথা জানাতে গিয়েও পরিশেষে তাঁকে সবচেয়ে দুষ্টু বন্ধু হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সানী।
চলচ্চিত্রের রঙিন দুনিয়ায় দীর্ঘ পথপরিক্রমায় অনেকের সঙ্গেই পেশাগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যার একটা বড় অংশ সময়ের বিবর্তনে ম্লান হয়ে যায়। তবে কিছু কিছু বন্ধন সময়কে বৃদ্ধাঙ্গুুলি দেখিয়ে আগের মতোই অটুট থাকে। ওমর সানীর এই সাম্প্রতিক পোস্ট থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, রূপালি পর্দার আলো-আঁধারির বাইরে এই দুই তারকার মধ্যকার ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক ভালোবাসার শিকড় কতটা গভীর ও মজবুত।