
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূজা চেরী সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগরীর উত্তর কাট্টলী এলাকার শ্রীশ্রী সেবা খোলা ও বৈকুণ্ঠধাম মন্দিরে নির্মিত আকর্ষণীয় ও ভিন্নধর্মী ‘রিপু রজনী’ পূজামণ্ডপ সচক্ষে অবলোকন করেছেন। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তিনি এই মণ্ডপ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। এরপর তিনি ঐতিহ্যবাহী কৈবল্যধাম পূজামণ্ডপও ঘুরে দেখেন।
এই সময় স্থানীয় এক বাসিন্দা, যার নাম আবির সরকার, অভিনেত্রীর বিভিন্ন কথা ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে তিনি সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেন। এছাড়া পূজা চেরী নিজেও এই মণ্ডপ পরিদর্শনের সময়কার কিছু ছবি নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক প্রফাইলে শেয়ার করেন।
‘রিপু রজনী’ মণ্ডপের মূল থিম বা ভাবনার উচ্চ প্রশংসা করে পূজা চেরী সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁর দৃষ্টিতে এটি অন্যতম চমৎকার একটি মণ্ডপ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। মূলত এই অনন্য সৃষ্টিটি চাক্ষুষ করার জন্যই তিনি রাজধানী ঢাকা থেকে কষ্ট করে এখানে ছুটে এসেছেন। সার্বিক আয়োজনটি তাঁর মন কেড়েছে এবং তিনি এই সৃজনশীল চিন্তাধারাকে আন্তরিক সাধুবাদ জানান।
উল্লেখ্য, মানুষের মনের গভীরে সুপ্ত থাকা ছয়টি প্রধান রিপু অর্থাৎ লোভ, মোহ, ক্রোধ, হিংসা, অহংকার এবং কামনার ওপর ভিত্তি করে এই মণ্ডপটির অবকাঠামো সাজানো হয়েছিল। মানুষের ভেতরের নৈতিক অন্ধকার, নিজ বিবেকের সাথে চলমান দ্বন্দ্ব এবং আত্মশুদ্ধি অর্জনের বাণী ফুটিয়ে তোলাই ছিল এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
মন্দির কমিটির আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের ঐতিহ্যবাহী শারদীয় দুর্গোৎসবের ৫৮তম বার্ষিকীতে তারা এই অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেন। প্রচলিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সাথে মানব মনস্তত্ত্ব এবং আত্মশুদ্ধির দর্শনকে দারুণভাবে একত্র করা হয়েছে এখানে। দেবী দুর্গার ধরাধামে আগমনকে অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের পথে ফিরে আসার এক অনন্য প্রেরণা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
এই অভিনব মণ্ডপের আকর্ষণীয় ছবি ও ভিডিও ক্লিপ মুহূর্তেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। মণ্ডপের এই ব্যতিক্রমী ভাবনা ও সৃজনশীলতা স্বচক্ষে দেখার জন্য পুরো উৎসব জুড়ে প্রতিদিন সাধারণ দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
আয়োজক কর্তৃপক্ষের অভিমত অনুযায়ী, ‘রিপু রজনী’ কেবল স্রেফ প্রতিমা দর্শনের কোনো গতানুগতিক আয়োজন নয়; বরং এটি মানুষের নিজস্ব অন্তরের ভেতরের অন্ধকার দিকগুলোকে চিনে নেওয়ার এক জোরালো আহ্বান। মানবজীবনে ষড়্রিপুর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেদের মুক্ত রেখে শুভবোধ, আত্মসংযম ও সঠিক আত্মোপলব্ধির পথে ধাবিত হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ বার্তাই বহন করেছে এই মণ্ডপটি।