
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রচেষ্টা ও সচেতনতামূলক প্রচারণা সত্ত্বেও দেশজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনা এবং জীবনহানির সংখ্যা কিছুতেই কমছে না। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে বিগত তেরো বছরে মোট ৭২ হাজার ৭৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫ জন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৪৯ জন মানুষ।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২০ সালে সমগ্র দেশে ১ হাজার ৩৮১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। অথচ ২০২৫ সালে এসে এই দুই চাকার দ্রুতগতির যানে দুর্ঘটনা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ২৯টিতে। মাত্র ছয় বছরের ব্যবধানে এই বাহনে দুর্ঘটনা বৃদ্ধির হার প্রায় ১১৯ শতাংশ। একই সময়ে এসব দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৪৬৩ জন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ৬৭১ জনে পৌঁছেছে, যার হার প্রায় ৮৩ শতাংশ বেশি।
বিশেষজ্ঞ মহলের অভিমত অনুযায়ী, রাজপথের নকশা ও অবকাঠামোগত নানা ত্রুটির পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে মোটরযানের অতিরিক্ত গতি, চালকদের বেপরোয়া আচরণ, গাড়ির নিম্ন কারিগরি মান এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় বাতলে দিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রখ্যাত অধ্যাপক ড. শামসুল হক মত প্রকাশ করেন যে, সড়ক নিরাপত্তা অডিট কেবল কাগুজে আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। অডিটের পরামর্শগুলো মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে কার্যকর করা হচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
তিনি আরও পরামর্শ দেন যে, যেকোনো সড়ক নির্মাণের আগেই নিরাপত্তা সমীক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং সড়ক চালুর পরেও নিয়মিতভাবে প্রতি দুই-তিন বছর অন্তর অডিট পরিচালনা করতে হবে। কেননা, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সড়কগুলোর ঝুঁকিও পরিবর্তিত হতে থাকে।
দুর্ঘটনা ঘটার পূর্বমুহূর্তেই সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। সারা বছর ধরে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও তা সঠিকভাবে বিশ্লেষণের সুব্যবস্থা থাকা আবশ্যক।
পরিশেষে অধ্যাপক শামসুল হক উল্লেখ করেন যে, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সরকারের জোরালো রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং এর সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা একান্ত অপরিহার্য।