
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ভারতের আসাম রাজ্যে মুসলিমদের বাড়িঘর ও মসজিদ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। তিনি এক কড়া বার্তায় এই উচ্ছেদ অভিযানকে ১৯৯২ সালের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
নাহিদ ইসলাম তাঁর বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সেই মর্মান্তিক ঘটনা ভারতীয় উপমহাদেশে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনের এক স্থায়ী প্রতীক হয়ে রয়েছে। আসামের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে এর গভীর মিল রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উপদেষ্টার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, বর্তমানের উগ্র হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদের শাসনাধীন ভারতে মুসলিম ছাড়াও খ্রিষ্টান ও শিখদের মতো অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং সমাজের নিম্নবর্ণের হিন্দুরা মারাত্মকভাবে অরক্ষিত। এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
সাম্প্রতিক এই নিপীড়নের প্রেক্ষাপটে ভারতীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় ও নির্দেশে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর যে চলমান নির্যাতন চলছে, তা অবিলম্বে আমলে নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই এই গুরুতর পরিস্থিতি নজরে আনতে হবে। মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতায় রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি ভারত সরকারকে কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি উত্থাপন করেন।
নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে সব নাগরিকের সমান অধিকারের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, একজন মানুষের জাতিগত বর্ণ, ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা সাংস্কৃতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, দেশের প্রতিটি ভারতীয় নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার এবং সমতার মৌলিক নীতি নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতির শেষাংশে তিনি দেশের ভেতর সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকারের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেন। ভারতের মাটিতে বসবাসকারী মুসলিমরাও যে এ দেশেরই বৈধ নাগরিক, সেই বাস্তব সত্যটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাদের পূর্ণ অধিকার সুরক্ষার আহ্বান জানান তিনি।