
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ দল মাত্র ১৭২ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টাইগারদের ব্যাটিং ব্যর্থতার দৃশ্যটি ছিল আরও বেশি শোচনীয় ও হতাশাব্যাঞ্জক।
আবুধাবির চমৎকার ব্যাটিংবান্ধব পিচেও মাত্র ১৬০ রানে অলআউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ইনিংসের শুরুর দিকে মাত্র ২৮ রানের বিনিময়ে ৪টি উইকেট হারিয়ে দল চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল।
এমন সঙ্কটময় মুহূর্তে পারভেজ হোসেন ইমন এবং সাইফ হাসান মিলে প্রতিরোধ গড়ে ৯৩ রানের একটি জুটি উপহার দেন। তারা এই জুটি না গড়লে বাংলাদেশ দলকে আরও বড় ও মারাত্মক লজ্জাজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো।
সামনেই আরেকটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট যার সূচি শুরু হতে এক বছরেরও কম সময় বাকি রয়েছে। বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে জাতীয় দলের এমন বিবর্ণ ও মলিন পারফরম্যান্স সংশ্লিষ্ট সকলের কপালেই গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
যেখানে জিম্বাবুয়ে কিংবা আফগানিস্তানের মতো তুলনামূলক কম শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষেও দলের পারফরম্যান্সের এমন করুণ চিত্র দেখা যাচ্ছে, সেখানে বৈশ্বিক আসরে মহাশক্তিধর দলগুলোর সামনে বাংলাদেশ কীভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাঠের লড়াইয়ে আফগানদের কাছে শোচনীয়ভাবে অসহায় আত্মসমর্পণের পর ম্যাচ-পরবর্তী আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে দলের ব্যাটার হৃদয় নিজের ও দলের ভুল অকপটে স্বীকার করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে হৃদয় মন্তব্য করেন যে, তারা ধারাবাহিকভারে দিনের পর দিন একই ধরনের ভুল বারবার করে চলেছেন। ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে তারা এই ম্যাচেও বড় ভুল করেছেন এবং ইনিংসের শুরুতেই দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে ফেলাই মূল বিপর্যয়ের কারণ ছিল।
তিনি আরও যোগ করেন যে, দলের টপঅর্ডার ব্যাটারদের অবশ্যই রান সংগ্রহ করতে হবে, অন্যথায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না এবং এই সমস্যা সমাধানে তারা কাজ করবেন।
দলের ব্যাটাররা চরমভাবে ব্যর্থ হয়ে মুখ থুবড়ে পড়লেও হৃদয় কোনো প্রকার অজুহাত তৈরি করার চেষ্টা করেননি।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করেন যে, উইকেটের যে চরিত্র ছিল সেই অনুযায়ী তারা অন্তত একশ রান কম করেছেন, কারণ পিচ ব্যাটিংয়ের জন্য অত্যন্ত উপযোগী ছিল।
এই চরম দুর্দিন ও খারাপ সময় থেকে পরিত্রাণ পেতে কঠোর পরিশ্রম ও সব ক্ষেত্রে উন্নতির কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন এই তরুণ ব্যাটার।
তিনি বলেন যে, দল হিসেবে তাদের অনেক কিছু শেখার আছে এবং ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ের কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি করতে হবে।
হৃদয়ের মতে তাদের হাতে পর্যাপ্ত সময় রয়েছে এবং তারা আশা করছেন এই ত্রুটিগুলো নিয়ে কাজ করে আসন্ন ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টে শক্তিশালীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।
দলের দায়িত্বশীল খেলোয়াড়ের এমন সব প্রথাগত আশ্বাসের পর দেশের সাধারণ ও নিবেদিতপ্রাণ ক্রিকেটভক্তদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, বাংলাদেশ দল আর কতকাল শুধু উন্নতির মিষ্টি বুলি ও গল্প শোনাবে।