
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া পর্যটকদের মধ্যে থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এক বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থী। পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত জেলা প্রশাসনের বিচকর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুব আলম এই তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
মাহবুব আলম জানান, গত ১৮ অক্টোবর রাজধানী ঢাকার উত্তরা এলাকা থেকে মোট সাত বন্ধু মিলে বান্দরবানের উদ্দেশে ভ্রমণ করতে রওনা দিয়েছিলেন। সেখানে দুই দিনব্যাপী ছুটি কাটিয়ে তাঁরা গত বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার শহরে পৌঁছান।
কক্সবাজারে পৌঁছানোর পর তাঁরা হিমছড়ি এলাকার প্যাঁচারদ্বীপ সংলগ্ন জাদুঘর সংলগ্ন একটি রিসোর্টে গিয়ে কক্ষ ভাড়া নেন এবং সেখানে ওঠেন।
রিসোর্টে দুপুরের খাবার গ্রহণের পর ওই সাত বন্ধু বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে সাগরে গোসল করতে নামেন। তবে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, তাঁদের কারোরই সাঁতার জানা ছিল না।
ঘটনার সময় সমুদ্র সৈকতে আরও বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষ ও পর্যটক গোসল করছিলেন। ওই সাতজনের মধ্যে দুজনকে সাগরের পানিতে ডুবে যেতে দেখে তাদের বাঁচানোর জন্য বাকি বন্ধুরা দ্রুত এগিয়ে যান।
কিন্তু উদ্ধার করতে গিয়ে তাঁদের অন্য বন্ধুরাও সমুদ্রের শক্তিশালী স্রোতের কবলে পড়ে ক্রমান্বয়ে ভেসে যেতে থাকেন। এই অবস্থা দেখে স্থানীয় এলাকাবাসী ও উদ্ধারকর্মীরা তাঁদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেন।
এদিকে হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সোলাইমান হোসেন নিহত ও নিখোঁজ তরুণদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন।
এসআই সোলাইমান হোসেন জানান, নিহতদের নিকটাত্মীয় ও স্বজনদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, নিহত সাইবুল হক জিসান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন।
অপরদিকে নিহত আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। নিহত মাহিবুর ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মোকাররম হোসেনের একমাত্র পুত্র সন্তান।