
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিদেশি বাজারে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের গতি পুনরুদ্ধারের পথ সুগম হওয়ার আগেই নতুন এক দুশ্চিন্তার মেঘ জমছে। বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার ইউরোপ মহাদেশের কয়েকটি রাষ্ট্রে শুরু হওয়া আন্দোলন এবং অস্থিতিশীল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশ বাণিজ্যের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনছে।
ফান্স এবং ইতালির মতো জনবহুল ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রে আকস্মিকভাবে ভ ভাঙচুর, হট্টগোল ও সহিংসতার ঘটনা ঘটায় ব্যবসায়ীরা গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে যদি এই গোলযোগ থামানো না যায়, তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরের বাণিজ্যিক গতি শ্লথ হয়ে পড়তে পারে।
এর ফলে সাধারণ মানুষের জিনিসপত্র কেনার সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি পোশাকসামগ্রীর চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই বহির্বিশ্বের সমস্যার পাশাপাশি দেশের ভেতরকার কারখানাগুলোর পরিচালনার খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার গুরুতর ঝুঁকিও ব্যবসায়ীদের কপালে ভাঁজ ফেলছে।
দীর্ঘকাল ধরে প্লান্টগুলোতে শক্তি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করার কারণে অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন উদ্যোক্তারা।
তদুপরি, সুতা আমদানির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় নিয়মনীতির কড়াকড়ির ফলে সামগ্রিক খরচ আরও বেশি বেড়ে চলেছে, যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
একদিকে ইউরোপের ক্রেতাদের কাছ থেকে কম চাহিদার পূর্বাভাস এবং অন্যদিকে নিজস্ব উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার দ্বিমুখী চাপে দিশাহারা হয়ে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মহাদেশটিতে আমাদের দেশের সামগ্রিক আয়ের পাশাপাশি পণ্যের একক প্রতি মূল্যও হ্রাস পেয়েছে।
গত বছরের প্রথম আট মাসের হিসাবে দেখা যায়, প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য যেখানে বেশি ছিল, বর্তমান বছরের একই সময়ে তা নেমে এসেছে।
নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানে প্রকাশ, এই সময়ের ব্যবধানে প্রতি কেজি কাপড়ের গড় দাম প্রায় সাত শতাংশের বেশি হ্রাস পাওয়ার প্রমাণ মিলেছে।
শুধু দাম কমাই নয়, একই সঙ্গে ইউরোপীয় অঞ্চলে সামগ্রিক চালানের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাওয়ার দুঃখজনক তথ্য সামনে এসেছে।
এই জটিল পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহিউদ্দিন রুবেল তার মতামত ব্যক্ত করেছেন।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, দেশের ভেতর খরচ বাড়লেও ইউরোপের ক্রেতারা কোনোভাবেই পণ্যের বেশি মূল্য পরিশোধ করতে ইচ্ছুক নন।
উলটো তারা আরও কম মূল্যে পোষাক পণ্য সরবরাহের জন্য আমাদের ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ প্রয়োগ করে চলেছেন।
এমন বৈরী পরিস্থিতিতে এ দেশের তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের ওপর বাণিজ্যিক টিকিয়ে রাখার লড়াই আরও বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে।