
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ফরেন অ্যাফেয়ার্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে সিআইএ-র সাবেক উপপ্রধান ডেভিড এস কোহেন আরও এগিয়ে গিয়ে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেছেন। তিনি সেখানে উল্লেখ করেছেন যে, বাণিজ্যিক গোপনীয়তা রক্ষার ঐতিহ্যবাহী নিয়মগুলো ভেঙে মার্কিন উন্নত প্রযুক্তির প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে এই সমস্ত তথ্য সরবরাহ করা প্রয়োজন।
পরবর্তীতে একটি সাক্ষাৎকারে কোহেন স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, দীর্ঘসময় ধরে তারা অত্যন্ত সংবেদনশীল আর্থিক তথ্য সংগ্রহ করে চলেছেন। মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর বাণিজ্যিক সুবিধা অর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দেশটির নীতিনির্ধারকদের আর কোনো প্রকার দোদুল্যমানতায় ভোগা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অবশ্য একই সাথে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, এই ধরনের বিশেষ সুবিধা বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ কিংবা অনিয়ম-দুর্নীতি যেন না ঘটে, সেজন্য একটি কঠোর ও কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা অবশ্যই বজায় রাখতে হবে। পেন্টাগনের এই জাতীয় এনওসি সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পর্কে তার কোনো পূর্বজ্ঞান বা তথ্য ছিল না বলেও তিনি সেসময় পরিষ্কার জানান।
এদিকে পেন্টাগনের অর্থনৈতিক যুদ্ধ পরিচালনার নানা কৌশল ও কার্যক্রম সম্প্রতি জনসমক্ষে চলে এসেছে। এর অংশ হিসেবে চলতি বছরেই ফেইনবার্গ একটি বিশেষ ‘ইকোনমিক ডিফেন্স ইউনিট’ বা ইডিইউ প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
প্রতিরক্ষা দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রেরিত একটি বিশেষ স্মারকে ফেইনবার্গ পরিষ্কার করে উল্লেখ করেন যে, এই নতুন ইউনিটের মূল লক্ষ্য হলো নানা ধরনের অর্থনৈতিক হাতিয়ার প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করা, তাদের যেকোনো ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা এবং শেষ পর্যন্ত তাদের পরাস্ত করা। ডিফেন্সস্কুপ সংবাদমাধ্যমটি সর্বপ্রথম এই অভ্যন্তরীণ স্মারকটির বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেছিল।
সারবেরাসের সাবেক সহকর্মী এবং পেন্টাগনের অত্যন্ত জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জর্জ কলিটাইডসকে ফেইনবার্গ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এই নতুন ইডিইউ বা অর্থনৈতিক প্রতিরক্ষা ইউনিটের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন।
এই সরকারি দপ্তরটি ইতিমধ্যে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন খনি ও শোধনাগারগুলোতে বিপুল অংকের সরকারি অর্থ বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে, যার পরিমাণ শত শত মিলিয়ন ডলার।
এই বিনিয়োগের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণের কথা উল্লেখ করা যায়, যেখানে পেন্টাগনের ৭৫০ মিলিয়ন ডলার সুনির্দিষ্টভাবে ব্যবহার করে ব্রাজিলের বিরল মৃত্তিকা খনিজের একটি বিশাল ও গুরুত্বপূর্ণ আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ বা সুরক্ষিত করা হয়েছে।