
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
প্রযুক্তির বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জোরদার লড়াই চালাচ্ছে ফেসবুকের মূল কোম্পানি মেটা। তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় অংকের আর্থিক জরিমানা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার মুখে পড়ার পরও, এই খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশাল পরিমাণ অর্থ ঢালতে পিছপা হচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্লেষকদের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক ফোনালাপে মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ জানান যে, সাধারণ গ্রাহকদের ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বাজারে ছাড়া মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন টুল ‘মিউজ’ ইতিমধ্যে প্রায় ১ কোটি মানুষ ব্যবহার করছেন। তিনি আরও জানান, এই উদ্ভাবনী টুলটি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার মাধ্যমেই তাদের মূল ব্যবসায়িক লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ কৌশল অর্জিত হবে।
নির্ধারিত এই কৌশল সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চলতি বছরেই প্রায় ১৩৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করার বিশাল পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মেটা কর্তৃপক্ষ। এই বিশাল বাজেটের সিংহভাগ অর্থই সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। এমনকি পরিস্থিতি সাপেক্ষে এই মোট খরচের পরিমাণ বেড়ে ভবিষ্যতে ১৪৫ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের এই অভাবনীয় ও বিপুল পরিমাণ আর্থিক বিনিয়োগের কারণে প্রতিষ্ঠানটির নগদ অর্থের স্বাভাবিক প্রবাহ বর্তমানে ঋণাত্মক বা মাইনাসের ঘরে চলে গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির পক্ষ থেকে পর্যালোচনা করা মেটার পুরোনো বিভিন্ন আর্থিক প্রতিবেদন ও নথিপত্র অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর গত ১৪ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথমবার তাদের নগদ অর্থপ্রবাহ দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণাত্মক রূপ ধারণ করেছে।
উল্লেখ্য, করপোরেট ভাষায় নগদ অর্থপ্রবাহ বলতে মূলত দৈনন্দিন পরিচালনা বাবদ খরচ এবং বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগের অর্থ সম্পূর্ণ পরিশোধ করার পর কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের তহবিলে বা হাতে যে পরিমাণ নগদ অর্থ অবশিষ্ট থাকে, তাকেই বোঝানো হয়। এর সহজ অর্থ হলো, বর্তমান সময়ে মেটার বাণিজ্যিক আয় অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় রেকর্ড পরিমাণে বেশি হওয়া সত্ত্বেও তারা উপার্জিত অর্থের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ খরচ করে চলেছে।