
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মাদারীপুরে প্রতিপক্ষের ওপর বোরকা পরে হামলা চালাতে গিয়ে উল্টো পাল্টা হামলায় তাইজুল সরদার নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এই সংঘর্ষের ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিহত তাইজুলের চাচা সোবাহান সরদারের সরাসরি অভিযোগ, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মিলন সরদারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশেই তাঁর ভাতিজাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
তবে ঘটনার সময় তাইজুলের নিজস্ব ভূমিকা ঠিক কী ছিল এবং তাঁকে ঠিক কারা কুপিয়ে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
চাচা সোবাহান সরদার সংবাদমাধ্যমকে আরও বলেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিলন সরদারের হুকুমেই ১০ থেকে ২০ জন লোক একত্রে মিলে তাঁর ভাতিজাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তিনি মিলন ও তাঁর সহযোগীদের ফাঁসি দাবি করেন।
এদিকে সুনির্দিষ্ট এই অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য অভিযুক্ত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান মিলন সরদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।
তবে তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাওয়ায় এই আকস্মিক হামলার বিষয়ে তাঁর কোনো ধরনের বক্তব্য বা মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
ঘটনা সম্পর্কে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, এলাকার আধিপত্য বিস্তার কিংবা পূর্বের কোনো শত্রুতার জেরে এই সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
পুলিশ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম আরও যোগ করেন যে, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দ্রুতই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিহত তাইজুল সরদারের মরদেহ ইতোমধ্যে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে গোটা এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পর্যাপ্ত পরিমাণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।