
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
গত দুই দিনে ভারতের আসাম রাজ্য সরকারের উচ্ছেদ অভিযানে বাংলাভাষী মুসলিম সম্প্রদায়ের এক হাজার একশর বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। এই আগ্রাসী বুলডোজার অভিযانের মুখে অসহায় হয়ে পড়েছেন দীর্ঘকাল ধরে সেখানে বসবাস করে আসা সাধারণ মানুষ।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা লুতুমারির বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সী আবদুন নূর রোববার নিজের বাড়িটি মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ার পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন। তিনি জানান, ১৯৭৪ সালে সরকারিভাবে তাদেরকে বর্তমান এই অঞ্চলে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
আবদুন নূরের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা মূলত পার্শ্ববর্তী জুরিয়া শহরের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। তাদের পূর্বপুরুষদের কোনো জমিজমা না থাকায়, অর্থাৎ তারা ভূমিহীন হওয়ায় সরকার তাদের বসবাসের জন্য এই নির্দিষ্ট বসতি গড়ে তুলেছিল।
সেই সময়ে মোট তিনশটি ভূমিহীন পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে চার বিঘা করে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। বহু দশক ধরে তারা সেখানেই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিলেন।
প্রশাসনের এই অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা বসে থাকেননি বলে উল্লেখ করেন আবদুন নূর। তিনি জানান, তাদের এই উচ্ছেদ অভিযানের আইনি বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে তারা গৌহাটি হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন।
তবে আইনি লড়াই চালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। আদালতের তরফ থেকে তাদের পক্ষে কোনো ধরনের আইনি প্রতিকার বা সুরক্ষা দেওয়া হয়নি বলে হতাশা প্রকাশ করেন এই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি।
শুধু ঘরবাড়িই নয়, এই ঝটিকা অভিযানে ধর্মীয় উপাসনালয়ও রেহাই পায়নি বলে অভিযোগ করেন নূর। তার দাবি অনুযায়ী, বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া স্থাপনাগুলোর মধ্যে ১০টিরও বেশি মসজিদ রয়েছে।
ধ্বংসপ্রাপ্ত এসব মসজিদের মধ্যে কয়েকটি অত্যন্ত প্রাচীন। আবদুন নূর জানান, এই মসজিদগুলোর অন্তত কয়েকটির বয়স অর্ধশত বছরেরও বেশি পুরনো ছিল, যা স্থানীয় মুসলিমদের আবেগের সঙ্গে জড়িত।
পূর্বপুরুষদের ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, তারা অতীতে বন বিভাগের অধীনে শ্রমিক হিসেবে নিয়মিত কাজ করতেন। মূলত সেই কাজের সুবাদেই তাদের পূর্বের প্রজন্মকে এই অঞ্চলে নিয়ে আসা হয়েছিল।