
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় মাঠে নেমেই কিউই বোলারদের ওপর ঝড় তোলেন ভারতীয় দলের দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসন। ইনিংসের সূচনা করতে নেমে তারা মাত্র ৩৫ বলের মুখোমুখি হয়ে গড়ে ফেলেন ৯৫ রানের দারুণ এক জুটি। তবে পাওয়ারপ্লয়ের শেষ ভাগে এসে আঘাত হানেন মাইকেল ব্রেসওয়েল, যার ষষ্ঠ ওভারের পঞ্চম বলের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন অভিষেক। দলের বাঁহাতি এই ওপেনার মাত্র ১২ বল খেলে দুটি চার ও তিনটি ছক্কার সাহায্যে ব্যক্তিগতভাবে করেন ২৯ রান।
অভিষেকের এই বিদায়েল ঠিক পরপরই হঠাৎ করেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারী ভারত। যার ফলে খুব দ্রুতই দলের স্কোর বোর্ডে রান যোগ হওয়ার মাঝেও ১০.৩ ওভারের খেলা শেষ হতে না হতেই তারা চার উইকেট হারিয়ে ১২২ রানের সংকটে পড়ে। এই বিপর্যয়ের মাঝে দ্রুত আউট হয়ে যান আগ্রাসী হয়ে ওঠা স্যামসনও। মিচেল স্যান্টনারের করা একটি বলে কাট শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হওয়ার আগে স্যামসন ৩৩ বল খেলে আটটি চার ও চারটি ছক্কার মারে মোট ৬৭ রানের একটি চমৎকার ইনিংস খেলেন। এছাড়া ক্রিজে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিলক ও ইশান কিষাণ, যাদের ব্যাট থেকে আসে যথাক্রমে মাত্র ৬ ও ১ রান, ফলে দুজনেই ফেরেন একক অঙ্কের ব্যক্তিগত রানে।
এমনকি দলের এই সাময়িক গভীর সংকট থেকে উদ্ধার করার গুরুদায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেন দলের অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার এবং অলরাউন্ডার অক্ষর প্যাটেল। এই জুটি পঞ্চম উইকেটে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ২৪ বল স্থায়ী জুটিতে যোগ করেন গুরুত্বপূর্ণ ৪৫ রান। তবে এই জুটি গড়ার পথে অক্ষর প্যাটেল দারুণ সৌভাগ্যবান ছিলেন, কারণ তিনি ব্যক্তিগত ১৩ ও ২৩ রানের মাথায় দুই দফায় জীবন পান। অবশ্য কিউই ফিল্ডারদের জন্য সেই ক্যাচগুলোর সুযোগ লুফে নেওয়া বেশ কঠিনই ছিল, এমনকি ফিল্ডিংয়ের সময় স্যান্টনার মারাত্মকভাবে ব্যথাও পান, যদিও শেষ পর্যন্ত তা নিউজিল্যান্ড দলের জন্য বড় কোনো বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি।
পরবর্তীতে দুইবার জীবন পাওয়া অক্ষর প্যাটেলকে ২৪ রানের মাথায় আউট করে সাজঘরে ফেরান পেসার লকি ফার্গুসন। অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার অবশ্য একপ্রান্ত আগলে রেখে জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেললেও শেষ পর্যন্ত নিজের ইনিংসটি জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি। ইনিংসের ১৯তম ওভারের প্রথম বলে আইয়ারকে প্যাভিলিয়নে পাঠান অ্যাডাম মিলনে, এতে ভেঙে যায় ষষ্ঠ উইকেটে নামান ও আইয়ারের গড়া মাত্র ২৩ বলের ৪৩ রানের আরেকটি মূল্যবান জুটি। এরপর জয়ের জন্য শেষ ১১ বলে ভারতের প্রয়োজন ছিল ১৬ রান, যা তারা কোনো ঝুঁকি না নিয়ে হাতে থাকা মাত্র ২ বল বাকি থাকতেই সফলভাবে টপকে যায়। শেষ ওভারের চতুর্থ বলে ম্যাট হেনরিকে একটি ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতকে ৪ উইকেটের দারুণ এক জয় উপহার দেন নামান।
সব মিলিয়ে ২২৬ রানের বিশাল পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত ১৯.৪ ওভারে মাত্র ৬ উইকেট হারিয়েই পৌঁছে যায় ২৩ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে সঞ্জু স্যামসন ৬৭ রান করে ইনিংসের সর্বোচ্চ স্কোরার হন এবং অসাধারণ এই অবদানের সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতে নেন তিনি। এছাড়া শ্রেয়াসের পাশাপাশি নামানও মাত্র ১৫ বল খেলে চারটি চার ও দুটি ছক্কার সাহায্যে সমান ৪২ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস উপহার দেন। কিউই বোলারদের মধ্যে মিচেল স্যান্টনার ও মাইকেল ব্রেসওয়েল প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
এর আগে ম্যাচের শুরুতে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ পায় স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড দল এবং তারা নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ২২৫ রান। কিউই ইনিংসের মূল আকর্ষণ ছিলেন গ্লেন ফিলিপস, যিনি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮২ রান করেন। মাত্র ৪০ বলের বিস্ফোরক এই ইনিংসে তিনি আটটি চার ও তিনটি ছক্কা হাঁকান। অন্যদিকে ভারতের পক্ষে মায়াংক, অক্ষর প্যাটেল ও আর্শদীপ সিং প্রত্যেকে একটি করে উইকেট দখল করেন।