
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
গাজা সংঘাতের জেরে নেতানিয়াহু এবং আইজেনকোট—উভয় পক্ষই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি প্রক্রিয়াকে সমর্থন জুগিয়েছে। আলোচিত ওই রূপরেখায় হামাসের পক্ষ থেকে অস্ত্র সমর্পণের শর্তে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, আইজেনকোট আগামী দেড় বছরের মধ্যে হামাসের শাসন কাঠামোর চূড়ান্ত পতনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
অন্যদিকে, পশ্চিমতীরে ইহুদি বসতি স্থাপনের কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে রয়েছে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক শিবির। যদিও আইজেনকোট সামগ্রিকভাবে ইসরায়েলি বসতিকে সমর্থন করেন, তবুও তিনি অত্যন্ত বিতর্কিত ই১ প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন। এই বিতর্কিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পুরো পশ্চিমতীর ভূখণ্ডটি বাস্তবিক অর্থেই দুটি বিচ্ছিন্ন অংশে ভাগ হয়ে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে।
একসময় ইসরায়েলের মূলধারার প্রভাবশালী অনেক রাজনীতিবিদই একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নেওয়া প্রধান ইহুদি রাজনৈতিক দলগুলোর কেউই এই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবটিকে তাদের নির্বাচনী এজেন্ডার মূল কেন্দ্রে রাখেনি।
স্থানীয় সময় আগামী ২৭ অক্টোবর রাত ১০টায় ইসরায়েলের বিভিন্ন সম্প্রচারমাধ্যম তাদের নিজ নিজ বুথফেরত জরিপের ফলাফল প্রকাশ করবে। এর ঠিক পরের দিনই প্রাথমিক ফলাফল জনসমক্ষে আসার কথা রয়েছে এবং আগামী ৪ নভেম্বর নাগাদ চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে নির্ধারিত আছে।
ফলাফল প্রকাশের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় শুরু করবেন। এরপর তিনি সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা সম্ভাবনার অধিকারী নেতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই দায়িত্ব অর্পণ করবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো নেতা সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে অন্য কোনো নেতাকে এই সুযোগ দেওয়া হতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত সবাই ব্যর্থ হলে ফের নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ তৈরি হতে পারে।
ফলে আসন্ন এই নির্বাচনে কেবল কে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন সেটাই নির্ধারিত হচ্ছে না, বরং ইসরায়েলের সামগ্রিক নিরাপত্তানীতি, ফিলিস্তিন সংকটের ভবিষ্যৎ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি কোন নির্দিষ্ট দিকে মোড় নেবে, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।