
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝেই আলোর মুখ দেখছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের তৈরি চলচ্চিত্র ‘অন্যপাতা’।
এই সিনেমার কাহিনী ও চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন পরিচালক এবং চুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শাহেজাহান এ্যানি।
মহামারী করোনাকালে নিজের জীবনের প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বানানোর পর চলচ্চিত্র নির্মাণের আত্মবিশ্বাস পান এই তরুণ নির্মাতা।
এরপর প্রখ্যাত নির্মাতা অমিতাভ রেজার দিকনির্দেশনা ও পরামর্শে দীর্ঘ তিন বছর চলচ্চিত্র বিষয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন তিনি।
লেখাপড়া শেষ করার পর পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েই তিনি ‘অন্যপাতা’ নামের এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণে কাজে নেমে পড়েন।
চলচ্চিত্রের পেছনের অভিজ্ঞতা নিয়ে পরিচালক এ্যানি জানান, এই কাজটি করতে গিয়ে তিনি তার চারপাশের মানুষগুলোর অসাধারণ সুন্দর ও সহযোগিতাপরায়ণ রূপ দেখতে পেয়েছেন।
শুরুতে মাত্র ছয় সদস্যের একটি ছোট দল নিয়ে কাজ শুরু হলেও পরবর্তীতে সেই দলটি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে চল্লিশ জনের একটি বিশাল টিমে রূপ নেয়।
এই দীর্ঘ পথচলার স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেন, মাঝে মাঝে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বলেন যে তারা ছবিটি বানাননি, বরং এই ছবিটিই তাদের গড়ে তুলেছে।
এদিকে সিনেমাটির অন্যতম প্রযোজক অংকন দে অনিমেষ জানান, তাদের আসল সংগ্রামের শুরু হয় মূলত চলচ্চিত্রটির মূল নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর।
দৃশ্যধারণ, গান ও মিউজিক ভিডিওর কাজ সফলভাবে শেষ করার পর তারা বুঝতে পারেন যে তারা সবাই শিক্ষার্থী হওয়ায় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে তাদের জোরালো কোনো যোগাযোগ বা পরিচিতি নেই।
এমন পরিস্থিতিতে এই সিনেমা কীভাবে দর্শকের সামনে মুক্তি পাবে, সেটিই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
অনেকেই বড় পর্দায় সিনেমা মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারে ভয় পান এবং সেই ভয়ের কথা তাদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার বিভিন্ন চেষ্টা চালানো হয়েছিল।
তবে সব ধরনের বাধা ও ভীতি উপেক্ষা করে তারা পিছু হটেননি এবং নানা জটিলতা ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে বর্তমান অবস্থানে এসে পৌঁছেছেন।
প্রযোজক অংকন দে অনিমেষের মতে, মুক্তির প্রথম দিনেই দেশের দশটি প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি প্রদর্শিত হওয়া তাদের পুরো দলটির জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং একটি বিশাল অর্জন।