
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিশ্বের দীর্ঘতম ভবন দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার ১৪১তম তলায় নিজের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় স্থাপন করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন কিশোর জয়নাম জৈন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই তরুণের বয়স এখন মাত্র চৌদ্দ বছর এবং তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের নাম মেঙ্গো ইঞ্জিন।
সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় আয়োজিত ওয়ার্ল্ড সিআইও ২০০ সামিটের সমাপনী পর্বে জমকালো এই অনুষ্ঠান পরিচালনা করার সময় সঞ্চালক তাকে ভবিষ্যতের ইলন মাস্ক বা পরবর্তী ইলন মাস্ক হিসেবে অভিহিত করেন। মূলত অল্প বয়সে প্রযুক্তি খাতে এমন উদ্যোগ নেওয়া এবং এআইয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন বাণিজ্যিক সমস্যার সমাধান খোঁজার কারণেই তার সঙ্গে এই তুলনা টানা হয়।
তবে এই প্রশংসাসূচক উপাধিটি সম্পূর্ণভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালকের নিজস্ব মন্তব্য ছিল এবং এটি কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি কিংবা দুিজনের বাণিজ্যিক সাফল্যের পরিমাপ নয়। জয়নামের আদি পৈতৃক নিবাস ভারতের পুনে শহরে অবস্থিত হলেও মাত্র পাঁচ বছর বয়সে সে পরিবারের হাত ধরে দুবাইয়ে পাড়ি জমায়।
বাবার কর্মক্ষেত্রের সুবাদে বিভিন্ন ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে নিয়মিত যাতায়াত ছিল তার এবং মাত্র ছয় বছর বয়সে সে প্রথম কোনো ব্যবসায়িক বৈঠকে অংশ নেয়। এই শৈশবকালীন অভিজ্ঞতা থেকেই মূলত বাণিজ্য ও উদ্যোগের নানা বিষয়ে তার মধ্যে তীব্র কৌতূহল ও শেখার আগ্রহের বীজ রোপিত হয়।
এর পরের বছর অর্থাৎ মাত্র সাত বছর বয়সে সে নিজের ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে একটি ইউটিউব চ্যানেল চালু করার মাধ্যমে ডিজিটাল দুনিয়ায় পদার্পণ করে। শুরুতে খেলনার বাক্স খোলার বিভিন্ন ভিডিও আপলোড করা হলেও পরবর্তীতে তারা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার নানা বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চ্যানেলটি চালুর মাত্র তিন মাসের মধ্যে এর সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা এক লাখের মাইলফলক অতিক্রম করে ফেলে। এরপর ২০২২ সালের দিকে জয়নাম ও তার পুরো দল ভারতের মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘ ৫০ দিনে প্রায় ১২০টি শিক্ষামূলক ও জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে।
মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তারা এসব আয়োজনের মাধ্যমে ৫০ হাজারেরও অধিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনাতেও এই কিশোর বিস্ময়কর গতিতে এগিয়ে গেছে এবং দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়া টুডের সূত্র অনুযায়ী মাত্র ১৩ বছর বয়সে সে কেমব্রিজের আইজিসিএসই পদ্ধতিতে দশম শ্রেণির সমমানের পরীক্ষা সফলভাবে শেষ করে।
বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠিত মেঙ্গো ইঞ্জিন হলো মূলত একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিপণন প্ল্যাটফর্ম যা নতুন উদ্যোগ ও ছোট ব্যবসার বিভিন্ন কাজে সহায়তা করে। বিপণন পরিকল্পনা প্রণয়ন, আকর্ষণীয় বিষয়বস্তু তৈরি, সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং সার্বিক গ্রাহক ব্যবস্থাপনার মতো কাজে এই প্ল্যাটফর্মটি সাহায্য করে থাকে।
জয়নাম নিজে এই প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মটিকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য একধরনের এআই সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। তবে সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী এই উদ্যোগটি বর্তমানে সম্পূর্ণ পরীক্ষামূলক পর্যায়ে অবস্থান করছে এবং এর চূড়ান্ত কার্যকারিতা ও ভবিষ্যৎ সাফল্য নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
বুর্জ খলিফায় বিলাসবহুল অফিস ছাড়াও জয়নামের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার ছোটবেলা থেকে কিছু শেখার তীব্র তাড়না ও ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনার ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা। তার এই অভিনብ প্রযুক্তি উদ্যোগটি আগামী দিনে কতটা সাফল্য অর্জন করবে তা কেবল সময়ই নির্ধারণ করবে, তবে এই বয়সে এমন ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টা তাকে ইতোমধ্যেই বিশিষ্ট আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।