
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রাজধানী ঢাকার সাভার উপজেলার একটি মহিলা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৩ বছর বয়সি এক মাদ্রাসছাত্রীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার সকালে উপজেলার নির্দিষ্ট একটি ইউনিয়নের ওই মাদ্রাসার ভেতরে একটি কক্ষে এই অমানবিক ঘটনাটি সংঘটিত হয়।
এই অপরাধমূলক ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির দাদা বাদী হয়ে গতকাল বুধবার রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে এই অপকর্মে সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রীকে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হলেও প্রধান শিক্ষক নিজেই চতুরতার সঙ্গে পালিয়ে যান।
মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, নির্যাতিত ওই শিশু শিক্ষার্থী অন্যান্য ছাত্রীদের সঙ্গে মাদ্রাসার ভবনটির দ্বিতীয় তলার একটি নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটে বসবাস করত। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের মধ্যে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক (যাঁর বয়স ৫০ বছর) ও তাঁর স্ত্রী (যাঁর বয়স ৪০ বছর) ভবনটির সম্পূর্ণ ভিন্ন আরেকটি ফ্ল্যাটে অবস্থান করতেন।
ঘটনার দিন গতকাল সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ভুক্তভোগী শিশুটি নিজের জুতা সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় তলার আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে নিচতলার দিকে নামে। ঠিক সেই মুহূর্তে অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে জোরপূর্বক একটি কক্ষের ভেতরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান এবং পরবর্তীতে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রীও এই নারকীয় ঘটনায় জড়িত ছিলেন এবং তিনি পুরো বিষয়টি কঠোরভাবে গোপন রাখার জন্য ওই ছাত্রীকে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন।
এজাহারে আরও প্রকাশ পায় যে, ভুক্তভোগী শিশুটি কক্ষ ত্যাগ করে চলে যাওয়ার উদ্যোগ নিলে প্রধান শিক্ষক আবারও তাকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য জোরালো হুমকি দেন। ঠিক সেই মুহূর্তে মাদ্রাসার বাবুর্চি আকস্মিকভাবে সেখানে এসে উপস্থিত হলে, অভিযুক্ত শিক্ষক তাঁর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত দ্বিতীয় তলার দিকে প্রস্থান করেন।
এরপর মানসিকভাবে ভেঙে পড়া ভুক্তভোগী শিশুটি তাৎক্ষণিকভাবে মাদ্রাসা থেকে নিজ বাড়িতে ফিরে যায় এবং সেখানে পৌঁছানোর পর অঝোরে কাঁদতে শুরু করে। পরিবারের লোকজন তার কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করলে, সে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং ঘটে যাওয়া সমস্ত লোমহর্ষক ঘটনা তাদের কাছে খুলে বলে।
পরিবারের সদস্যরা এই বর্বরোচিত তথ্য জানার পর স্থানীয় এলাকার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ওই মাদ্রাসায় উপস্থিত হন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রীকে আটকে ফেলেন। তবে সাধারণ মানুষ ও পরিবারের সদস্যরা পৌঁছানোর আগেই মূল অভিযুক্ত শিক্ষক অত্যন্ত কৌশলে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে পালিয়ে যান।
এই পুরো বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে সাভার মডেল থানার তদন্তের দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, অভিযুক্ত মাদ্রাসা প্রধান শিক্ষক ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে বুধবার দিবাগত রাতেই নিয়মিত মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি, নির্যাতিত শিশুটির প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য তাকে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রিসিস সেন্টারে (ওসিসি) প্রেরণ করা হয়েছে।