
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সাংবাদিক আলিফ হত্যার ঘটনার পরদিন নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলা দায়েরের পর তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গত ১৮ অক্টোবর কিলার তাজুলের ভাতিজা সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্বকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই যুবকের বয়স বাইশ বছর বলে জানিয়েছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।
পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, হত্যাকাণ্ডের ওই দিনটিতে অপূর্ব সরাসরি অপরাধস্থলটিতে উপস্থিত ছিলেন। শুধু তা-ই নয়, তাঁর কাছে থাকা একটি ব্যাগে অস্ত্র ভর্তি ছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এরপর তাঁকে আদালতে তোলা হলে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
অপরদিকে গত ২০ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর এলাকা থেকে আশিকুর রহমান প্রাঙ্গণ নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বয়স একুশ বছর। তিনি মূল শুটার শামীমের ভাগ্নে বলে জানা গেছে।
গত ২১ অক্টোবর তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশ এই দুই তরুণকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে।
নিহত আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা গণমাধ্যমকে জানান, সংবাদ সংগ্রহের কাজ করতে গিয়েই তাঁর স্বামী স্থানীয় সন্ত্রাসীদের রোষানলে পড়েন। অতীতে তাঁর ওপর একাধিকবার প্রাণনাশের চেষ্টা চালানো হলেও তিনি পেশাগত সততা বজায় রেখে সত্য প্রকাশ অব্যাহত রেখেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, নিজের জীবন নিয়ে নিরাপত্তার শঙ্কার কথা তিনি পুলিশকে আগে থেকেই জানিয়েছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তিনি অবিলম্বে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, পুলিশ বর্তমানে প্রধান শুটারদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে। গ্রেপ্তারকৃত দুজনের একজন শুটার শামীমের ভাগনে এবং অন্যজন কিলার তাজুলের ভাতিজা।
ওসি আরও উল্লেখ করেন যে, শুটার শামীমের বিরুদ্ধে প্রায় ত্রিশটি এবং তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে পনেরোটির মতো মামলা রয়েছে। অপরাধী চক্রের এই দীর্ঘ অপরাধের ইতিহাস পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
ময়মনসিংহ রেঞ্জের পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানিয়েছেন, সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উন্মোচনের একেবারে শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে পুলিশ।
তিনি জানান, তদন্তে শুটার হিসেবে তাজুলের নাম জোরালোভাবে উঠে এসেছে। পাশাপাশি শামীমকেও অন্যতম সন্দেহভাজন হিসেবে আমলে নিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) হাফিজুল ইসলাম বলেন, অতীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা ও প্রেক্ষাপটসহ যাবতীয় বিষয় সামনে রেখে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে। মূল অপরাধীদের জালে আটকাতে পুলিশ দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।