
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিওচিত্রে এই সাম্প্রতিক ভূকম্পনের সময়কার ভীতিকর পরিবেশ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। প্রকাশিত এসব ফুটেজে লক্ষ্য করা যায় যে, ভূকম্পন অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন খাবার ঘরের কর্মীরা হুড়োহুড়ি করে রাজপথে কিংবা খোলা আকাশের নিচে বেরিয়ে আসছেন।
একই সঙ্গে বিপণন কেন্দ্রগুলোর প্রাঙ্গণে থাকা তাকগুলো থেকে নানা ধরনের পণ্য ও দ্রব্যাদি প্রবল ঝাঁকুনিতে নিচেছড়ে পড়ে মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ছে।
এর পূর্বে গত ২০২৫ সালের প্রথম মাস অর্থাৎ জানুয়ারি মাসে তিব্বতের প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদ তিংরি কাউন্টিতে এক প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছিল। সেই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন অন্তত ১২৬ জন হতভাগ্য মানুষ।
অন্যদিকে গত আগস্ট মাসে নেপাল ও তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় এক প্রলয়ংকরী আকস্মিক প্লাবনের কবলে পড়ে চৌদ্দশতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। আন্তর্জাতিক সীমান্ত অঞ্চলের নিকটবর্তী এলাকা থেকে জন্ম নেওয়া সেই পাহাড়ি ঢলের ভয়াল স্রোতধারা নেপাল রাষ্ট্রের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন জনপদে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
উক্ত প্রলয়ংকরী প্লাবনের তোড়ে অসংখ্য বসতভিটা এবং বৃহদাকার স্থাপনা সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছিল। সেই মহাদুর্যোগ কাটিয়ে ওঠার মাত্র কয়েকটি সপ্তাহ পার হতে না হতেই এবার তিব্বত অঞ্চলে ফের এক তীব্র ভূমিকম্প আঘাত হানল।
এর পাশাপাশি, চীনের ভূখণ্ডে ৫.২ মাত্রার অপর একটি ভূকম্পন সংঘটিত হওয়ার সংবাদ নিশ্চিত করেছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি বা এনসিএস। সংশ্লিষ্ট এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রদানকৃত তথ্যাদি অনুযায়ী, ভারতীয় মান সময় অনুযায়ী ওই দিন রাত আটটা বেজে ঊনত্রিশ মিনিটে এই কম্পনটি অনুভূত হয়।
ভারত নিয়ন্ত্রিত অরুণাচল প্রদেশের পাঙ্গিন জনপদের প্রায় পাঁচশত পাঁচ কিলোমিটার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এবং ভূপৃষ্ঠের ঠিক পনেরো কিলোমিটার গভীরতায় এই দ্বিতীয় ভূকম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল বলে জানা গেছে। তবে এই দ্বিতীয় কম্পনটির ফলে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের মানবজীবনহানি কিংবা বড় ধরনের বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির কোনো বিবরণ পাওয়া যায়নি।