
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাতাসের মান বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ১৫০-এর মাত্রা অতিক্রম করলেই তা সাধারণ মানুষের শ্বাসতন্ত্রের পাশাপাশি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে শুরু করে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক নাগরিক এবং যাদের পূর্বে থেকেই শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা রয়েছে, তাদেরকে ঘরের বাইরে চলাচলের সময় অবশ্যই মাস্ক ব্যবহারের কঠোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশে সাধারণত শীতকাল কিংবা শুষ্ক আবহাওয়া শুরু হওয়ার সাথে সাথে বায়ুদূষণের মাত্রা আরও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। শীতকালীন আবহাওয়াগত বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য, যানবাহন এবং শিল্পকারখানা থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বর্জ্য নির্গমন, চলমান বিভিন্ন নির্মাণকাজের মাধ্যমে সৃষ্ট ধুলোবালি এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার ইটভাটাগুলো এই গুরুতর দূষণ সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী।
বর্তমান দূষণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও বেশি অবনতির দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বায়ুমান সূচক বা একিউআই যদি ৫০-এর নিচে অবস্থান করে, তবে কেবল সেই বাতাসকেই সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অন্যদিকে, একিউআই সূচক ৫১ থেকে ১০০ এর মধ্যে থাকলে তাকে সহনীয় মাত্রা ধরা হয়, আর এটি ১০১ থেকে ১৫০ এর ঘরে পৌঁছালে তা সতর্কতামূলক হিসেবে গণ্য করা হয় এবং শিশু ও বয়স্কদের মতো সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর হয়ে দাঁড়ায়। সূচকটি ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে রেকর্ড হলে তা সব মানুষের জন্যই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হয় এবং ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত সূচক থাকলে সেই বাতাসকে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর বলা হয়ে থাকে।
বাতাসের মান সূচক যদি কোনো কারণে ৩০০ এর অঙ্ক ছাড়িয়ে যায়, তবে সেই অবস্থাকে দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বায়ুদূষণের কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন মারাত্মক স্বাস্থ্যগত সমস্যার শিকার হয়ে প্রতিবছর পৃথিবীতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটে থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গৃহস্থালি দূষণ এবং পারিপার্শ্বিক বায়ুদূষণ উভয় বিষয়ের সম্মিলিত ক্ষতিকর প্রভাবে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬৭ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করছে।