
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বঙ্গোপসাগরের বুকে একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই লঘুচাপটি ক্রমান্বয়ে ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপ এবং পরবর্তীতে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, এই সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি সৃষ্টি হলে এর নামকরণ করা হতে পারে ‘অর্ণব’। আগামী সোমবার নাগাদ এটি উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য গন্তব্য বা লক্ষ্যস্থল হিসেবে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ কিংবা তামিলনাড়ু উপকূলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে বাংলাদেশে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই বললেই চলে।
ঘূর্ণিঝড়ের পরোক্ষ প্রভাবে আগামী মঙ্গলবার দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে রাজধানী ঢাকাতেও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, যদিও এখানে বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি পরিমাণে না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
এদিকে আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলেই কোনো বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। গত ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, অধিদপ্তরের অধীন থাকা দেশের মোট ৫১টি স্টেশনের কোনোটিতেই সামান্য পরিমাণ বৃষ্টিও রেকর্ড করা হয়নি।
আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিগত কয়েক দিন ধরে বঙ্গোপসাগরে ধারাবাহিকভাবে একের পর এক লঘুচাপ তৈরি হচ্ছে। এর পাশাপাশি বাতাসে পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি রয়েছে।
পশ্চিমা বায়ুর এই আধিক্যের কারণে বায়ুপ্রবাহ মূলত সাগরমুখী হয়ে পড়ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এ ধরনের পারিপার্শ্বিক আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে সাধারণত দেশের ভেতরে বৃষ্টির সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।
অন্যদিকে, বর্তমান সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে দিবালোকে বেশ গরম অনুভূত হলেও রাত এবং ভোরের দিকে তাপমাত্রা বেশ কিছুটা হ্রাস পাচ্ছে।
বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে এরই মধ্যে শীতের আমেজ স্পষ্টভাবে অনুভূত হতে শুরু করেছে। আবহাওয়ার এই তারতম্য দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
গত বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের রেকর্ড অনুযায়ী দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ায়, যা পরিমাপ করা হয়েছিল ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে মজার বিষয় হলো, একই দিনে ঠিক ওই তেঁতুলিয়াতেই আবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অন্যদিকে একই দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ অঞ্চলে, যার পরিমাণ ছিল ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে সন্দ্বীপে রাতের তাপমাত্রা নেমে এসে দাঁড়াচ্ছিল ২২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।