
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
দুমুঠো পনির চুরির অপরাধে জড়িয়ে পড়া দুটি বিড়ালের মধ্যে শুরু হয় তুমুল বিবাদ। চুরি করা খাবার কীভাবে বন্টন করা যায়, তা নিয়ে তাদের পারস্পরিক মতপার্থক্য চরমে ওঠে।
কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি ছিল না। তীব্র চিত্কার ও বাকবিতণ্ডার জেরে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অবশেষে কোনো সমাধান না পেয়ে তারা একটি চতুর মধ্যস্থতাকারীর শরণাপন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। দুই বিড়াল মিলে এক বানরকে তাদের বিচারক হিসেবে নির্বাচন করে।
তারা মনে করেছিল, এই প্রাণীটি তাদের খাবারটি নিখুঁত ও সমান মাপে ভাগ করে দেবে। দুই প্রাণী অত্যন্ত বিনয়ের সাথে তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরে।
তারা অনুরোধের সুরে বলে, হে ভাই, আমাদের এই ঝামেলাটি একটু মিটিয়ে দাও না। তাহলে আমাদের দারুণ উপকার হয়, তুমি কি এই দায়িত্ব নেবে?
এমন লোভনীয় প্রস্তাব পেয়ে মধ্যস্থতাকারী প্রাণীটি দারুণ আনন্দিত হয়। মিষ্টি মুখভঙ্গিতে সে সান্নিধ্যের কথা জানিয়ে খাবারটি নিজের হেফাজতে নিতে চায়।
সে তাদের উদ্দেশ্যে বলে, অবশ্যই, কেন নয়। দেখি, খাবারটির প্যাকেট আমার হাতে তুলে দাও।
এরপর সে বিড়ালদের একটি মাপার যন্ত্র বা স্কেল খুঁজে আনতে পাঠায়।
এই সুযোগে সে নিজেই গোপনে একটি ধারালো অস্ত্র সংগ্রহ করে নেয়। এবার শুরু হতে যাচ্ছে আসল হিসাব-নিকাশ।
দুই বিড়াল অত্যন্ত উৎসুভ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। ইতোমধ্যে তারা একটি পরিমাপক স্কেল নিয়ে উপস্থিত হয়।
কিন্তু মধ্যস্থতাকারী কী করল? সে খাবারটিকে সঠিকভাবে দুই টুকরো না করে একপাশে বেশি এবং অন্যপাশে কম রাখল।
সে অত্যন্ত সুকৌশলে এই অসমান ভাগটি তৈরি করে। এরপর স্কেল দিয়ে মাপার ভান করে হতাশা প্রকাশ করে।
সে কৃত্রিম দুঃখ প্রকাশ করে বলে, ইশ, পরিমাপ তো ঠিকমতো হলো না। আচ্ছা, আমি বিষয়টি দেখছি কীভাবে এটি সমান করা যায়।
কিছুক্ষণের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে সে তাদের সান্ত্বনা দেয়।
বিড়াল দুটি বিভ্রান্ত হয়ে পরস্পরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে থাকে। তাদের বুঝতে বাকি থাকে না যে তারা এক বিরাট বিপদের ফাঁদে পা দিয়েছে।
উভয়ের কাছেই মধ্যস্থতাকারীর আচরণ ও চালচলন সন্দেহজনক মনে হতে থাকে। তারা অনুধাবন করতে পারে যে তারা নিজেরাই ডেকে বিপদ ডেকে এনেছে।
যে অংশে খাবারের পরিমাণ বেশি ছিল, সে সেখান থেকেই খাওয়া শুরু করে। এভাবে একপাশের অংশ কমিয়ে ফেলা হয়।
এবার বিড়ালরা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে যে তার উদ্দেশ্য ভালো নয়। সে পুরো খাবারটাই নিজের পেটে চালান করার ফন্দি এঁটেছে।
তারা মনে মনে ভাবতে থাকে, কী এক মুশকিলে পড়া গেল। এখন পরিত্রাণের পথ কী হবে?
শেষ পর্যন্ত ধৈর্য হারিয়ে এক বিড়াল প্রতিবাদ করে ওঠে।
সে বলে, অনেক হয়েছে, হে মধ্যস্থতাকারী ভাই। আর কষ্ট করে মাপজোখ করতে হবে না। আমরা নিজেরাই নিজেদের অংশ বুঝিয়ে নেব। আমাদের খাবার ফিরিয়ে দিয়ে নিজের পথে চলে যাও।
কিন্তু বিচারকের ভূমিকায় থাকা প্রাণীটি ইতিমধ্যে এই সুযোগ উপভোগ করতে শুরু করেছে। এমন সুযোগ সহজে হাতছাড়া করতে চায় না সে।
সে মনে করে আজকের দিনটি আসলেই চমৎকার।
সে পাত্তাই না দিয়ে বলে, সেটি তো কিছুতেই সম্ভব নয়। তোমরা নিজেরা এই কাজ করতে পারবে না।
যদি পারতেই, তবে আমাকে কষ্ট করে ডাকতে হতো না। নিজেরা আবার ঝামেলায় জড়িয়ে পড়তে তোমরা।
সবশেষে সে কথা বলতে বলতে অবশিষ্ট সমস্ত খাবার পেটে চালান করে দেয়। দুই বিড়াল স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রয়। নিজস্ব ভুলত্রুটির খেসারত হিসেবে তাদের সব হারাতে হয়।