
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার শীর্ষ পদে বর্তমান প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পুনরায় আসীন হওয়ার প্রচেষ্টার পক্ষে জোরালো অবস্থান ঘোষণা করেছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন। অতীতে বাণিজ্যিক পরিকল্পনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও বিরোধিতার মুখ পড়তে হলেও এশীয় অঞ্চলের পক্ষ থেকে আজ তাঁকে এই সমর্থনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হলো।
জাপানের রাজধানী টোকিওতে অনুষ্ঠিত এএফসির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ষাট বছরের কাছাকাছি বয়সের ইনফান্তিনো নিজে সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর সামনেই তাঁর প্রতি কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই সম্পূর্ণ সমর্থনের কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন এএফসির সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল-খলিফা।
এর আগে গত আগস্ট মাসের দিকে ফিফার প্রধান ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে উন্মুক্ত করে দেওয়ার একটি অভিনব পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। সেই সময় ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং কনকাক্যাফের সঙ্গে একজোট হয়ে ইনফান্তিনোর কঠোর সমালোচনা করেছিল খোদ এএফসি।
এমনকি চতুর্থ ও সর্বশেষ মেয়াদের জন্য সভাপতি পদে পুনরায় লড়াই করার প্রস্তুতি নেওয়ার প্রাক্কালে ইনফান্তিনোকে নিজ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল। বিভিন্ন ঘটনার জেরে বহু অ্যাসোসিয়েশন তাঁর ওপর থেকে নিজেদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছিল, যা তাঁর ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইনফান্তিনোর আবারও ফিফা প্রধান হওয়ার সম্ভাবনাকে বেশ জোরালোভাবে বেগবান করেছে এশিয়ার এই পদক্ষেপ। এ প্রসঙ্গে শেখ সালমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে ফিফার সভাপতি হিসেবে তিনি নতুন মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং তাঁকে ও তাঁর নেতৃত্বকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে তাঁদের যে পূর্ণ অঙ্গীকার রয়েছে, তা তাঁরা পুনর্ব্যক্ত করছেন।
এশিয়ার এই শীর্ষ কর্মকর্তা আরও যোগ করেন যে ইনফান্তিনো এশিয়ার বহু দেশ সশরীরে ভ্রমণ করেছেন এবং এই মহাদেশের অনেক সদস্যের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগতভাবে কথা হয়েছে। ইনফান্তিনোর ভেতরের অনুভূতি ও তাঁর প্রতিশ্রুতির বিষয়টি তাঁর কাছে অত্যন্ত স্পষ্ট এবং জিয়ান্নির প্রতি সকলের এই সমর্থন যে কতটা নিখাদ, তা সবারই অনুধাবন করা উচিত।
অতীতে দুই পক্ষের মধ্যে চলা বিভিন্ন মতপার্থক্য ও বিতর্কের কথা স্মরণ করে এএফসির বিশেষ কংগ্রেস এবং উপস্থিত ইনফান্তিনোকে উদ্দেশ করে শেখ সালমান বলেন যে অতীতে তাঁদের কিছু নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা বা মতপার্থক্য হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু অতীত ও বর্তমানের দুটি ভিন্ন বিষয়কে একত্রিত করে গুলিয়ে ফেলা কিছুতেই ঠিক হবে না।
সবাইকে অতীত ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন যে সকলে মিলে যখন যৌথভাবে কাজ করার মানসিকতা পোষণ করে, ঠিক তখনই কেবল বিশ্ব ফুটবল সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ রূপ লাভ করতে সক্ষম হয়।
বিশ্বকাপের মতো অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টগুলোর আয়োজক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার সেই বিতর্কিত পরিকল্পনাটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। এর জেরে গত সপ্তাহেই সবার সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন ইনফান্তিনো।
উল্লেখ্য যে সুইজারল্যান্ডের এই নাগরিক ২০১৬ সাল থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফিফা সভাপতির দায়িত্ব সফলভাবে পালন করে আসছেন। আগামী বছরের মার্চ মাসে নির্ধারিত সভাপতি নির্বাচনে তিনি আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন, আর তাঁর প্রার্থিতা জমা দেওয়ার সর্বশেষ দিন নির্ধারিত রয়েছে আগামী ১৮ নভেম্বর।
যদিও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলো ইনফান্তিনোর নানা কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনায় সবসময় মুখর থাকে, তবুও তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো হেভিওয়েট বা বড় মাপের কোনো প্রার্থী এখন পর্যন্ত আসন্ন নির্বাচনের জন্য নিজেদের প্রার্থিতার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেননি।
বিভিন্ন ধরনের বিতর্ক ও মতবিরোধের জেরে ইউরোপীয় অঞ্চলের অনেক শীর্ষস্থানীয় জাতীয় অ্যাসোসিয়েশন ইতোমধ্যে ইনফান্তিনোর ওপর থেকে নিজেদের পূর্বনির্ধারিত সমর্থন সম্পূর্ণভাবে তুলে নিলেও, এশিয়ার এই নিঃশর্ত সমর্থন তাঁর নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে দারুণভাবে সহায়তা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।