
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পারিবারিক সূত্র ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশ থেকে নিজ দেশে ফিরে আসার পর থেকেই ফারুকের মানসিক অবস্থা কিছুটা অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে এবং তিনি নানা ধরনের অপ্রকৃতিস্থ আচরণ করতে শুরু করেন। বিগত কয়েক দিন ধরেই এই অস্বাভাবিক আচরণ অব্যাহত ছিল, যার অংশ হিসেবে তিনি মাঝেমধ্যেই নিজের মায়ের কাছে মাদকদ্রব্য কেনার জন্য অর্থ দাবি করতেন অথবা আপন চাচার নিকটস্থ জমির মালিকানার দলিল চেয়ে বিভিন্ন ধরনের বাকবিতণ্ডা ও কলহে জড়িয়ে পড়তেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ফারুক মানসিকভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছিলেন এবং তাঁর এই মানসিক অবস্থার ক্রমাবনতি ঘটছিল। ঘটনার দিন, অর্থাৎ শুক্রবারের প্রারম্ভিক সকালে তাঁর উগ্রতা ও আক্রমণাত্মক আচরণ অতীতের সমস্ত মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। এহেন পরিস্থিতিতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা একত্রিত হয়ে তাঁকে শান্ত করার এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আন্তরিক চেষ্টা চালান।
কিন্তু পরিবারের এই শান্ত করার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ফারুক হঠাৎ করেই চরম হিংস্র হয়ে ওঠেন এবং ঘর থেকে দেশীয় অস্ত্র হিসেবে একটি ধারালো দা ও একটি লোহার শাবল সংগ্রহ করেন। এরপর তিনি কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই ঘরের ভেতরে উপস্থিত অসহায় পরিবারের সদস্যদের ওপর অতর্কিত ও নৃশংসভাবে সশস্ত্র হামলা পরিচালনা করেন।
ফারুকের হাতে থাকা ভারী লোহার শাবলের উপর্যুপরি এবং প্রচণ্ড আঘাতের ফলে তাঁর আপন চাচি সোনা বানু গুরুতর জখম হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। এছাড়া ফারুকের এলোপাতাড়ি কোপ ও আঘাতে তাঁর নিজের বড় বোন ত্রিশ বছর বয়সী মমিনা খাতুন, ছোট ভাইয়ের ছাব্বিশ বছর বয়সী স্ত্রী জোসনা খাতুন এবং সচল চাচা সাতচল্লিশ বছর বয়সী খলিলুর রহমান গুরুতরভাবে জখম ও রক্তাক্ত হন।
এই ভয়াবহতাপূর্ণ হামলার ঘটনার পরপরই এলাকার আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং আক্রমণ প্রতিহত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরবর্তীতে স্থানীয় জনতাই অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে এসে এই বর্বরোচিত হামলায় গুরুতর আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন এবং চিকিৎসার জন্য তাঁদের নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।