
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পশ্চিমতীরের হেবরন শহরে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ভেঙে ফেলার মতো ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। অঞ্চলটিতে আগে থেকেই কঠোর অবরোধ বলবৎ রয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পশ্চিমতীরে উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে বার্ষিক জলপাই সংগ্রহের এই মৌসুমে উগ্রপন্থী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিরা নিয়মিত হামলার শিকার হচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
এই ঘটনার ঠিক চার দিন বাদেই ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্বনির্ধারিত সময় রয়েছে। এমন এক敏感 সময়েই এই বড় ধরনের ঘটনাটি সংঘটিত হলো।
নির্বাচনী প্রচারে নিরাপত্তার বিষয়টিকেই সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি হিসেবে সামনে এনেছেন দেশটির শীর্ষ নেতা নেতানিয়াহু। সাম্প্রতিক হামলার পর গত শুক্রবার সকালে তাঁর দল লিকুদ পার্টির পক্ষ থেকে সমস্ত নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচি তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত বা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থল স্বয়ং পরিদর্শন করে নেতানিয়াহু দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন যে, হামলাকারীদের আবাসস্থলের ভৌগোলিক ও দৃশ্যমান চেহারা পুরোপুরি বদলে দেওয়া হবে।
ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, অতীতেও বিভিন্ন হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
ইসরায়েলের নিজস্ব মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ধরনের ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থাকে কঠোর ভাষায় ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর কড়া সমালোচনা করে আসছে।
নেতানিয়াহু এর আগে পশ্চিমতীরের বিভিন্ন শরণার্থীশিবিরে পরিচালিত সামরিক অভিযানের নানা দিক তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি, সেখানে ভবিষ্যতে আরও একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথাও তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন।
তবে এই বড় মাপের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানটি ঠিক কোন দিন বা কবে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট বা সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ প্রকাশ করেননি।
এদিকে হেবরন শহর এবং এর ঠিক পাশেই অবস্থিত হালহুল শহরের চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকজুড়ে কঠোর সামরিক অবরোধ ও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।