
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিজয় উদযাপনের মধ্য দিয়ে নিজেদের এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মিশন সমাপ্ত করেছে বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবল প্রতিযোগিতার অন্যতম দল ফর্টিস এফসি। কুয়েতের বিখ্যাত মোহাম্মদ আল হামাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সি গ্রুপের নিজেদের সর্বশেষ তথা তৃতীয় ম্যাচে দারুণ লড়াকু মানসিকতা প্রদর্শন করেছে দলটি। প্রতিপক্ষের মাঠে শুরুতে এক গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ার পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে তাজিকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রেগার-তাদাজকে ৩-১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করেছে তারা।
অবশ্য এই গুরুত্বপূর্ণ ও সান্ত্বনার জয় পাওয়ার আগেই ফর্টিস এফসি এবং তাদের তাজিক প্রতিপক্ষ উভয়েরই নকআউট পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গিয়েছিল। গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানোর ভাগ্য কোনো দলটিরই আর অনুকূলে ছিল না। টুর্নামেন্টের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি ফর্টিসের, কারণ কুয়েতের শক্তিশালী ক্লাব আল-কাদসিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে আসর শুরু করেছিল তারা।
এরপর নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ের দেখা পায়নি দলটি, যেখানে ভারতের এফসি গোয়ার কাছে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত হতে হয়েছিল তাদের। এই প্রথম দুই ম্যাচের টানা পরাজয়ই মূলত গ্রুপ পর্ব থেকে ফর্টিসের ছিটকে পড়া নিশ্চিত করে দিয়েছিল, যার ফলে শেষ ম্যাচটি কেবলই আনুষ্ঠানিকতার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছিল।
তবে শেষ ম্যাচে এসে দুর্দান্ত চরিত্রের পরিচয় দিয়েছে ফর্টিস এফসি, যেখানে তারা প্রথমে গোল খেয়েও দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরে আসে। খেলার ঠিক ১২ মিনিটে শেরজোদ মাখামাদিয়েভের দুর্দান্ত এক গোলে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় তাজিকিস্তানের ক্লাব রেগার-তাদাজ। এরপর ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে একে একে রাফায়েল টুডু, শিয়ান কাওয়াসাকি এবং ৮৮তম মিনিটে শুকি ইতোফুসার দুর্দান্ত গোলগুলো ফর্টিসকে স্মরণীয় এক জয় উপহার দেয়।
ম্যাচের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরে যায় ফর্টিস গোল হজম করার ঠিক পাঁচ মিনিট পরেই, যখন বক্সের ঠিক বাইরে ফাউল করার অপরাধে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন রেগার-তাদাজের মূল গোলকিপার। যদিও প্রতিপক্ষের বদলি গোলকিপার শাখোবিদ্দিন মাখমুদজোদা মাঠে নেমেই পা ওমারের একটি অসাধারণ বাঁকানো ফ্রি-কিক দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন।
প্রতিপক্ষ দল দশজনে পরিণত হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত সমতা ফেরায় ফর্টিস। পা ওমার বাবুর বাড়ানো নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে রাফায়েল টুডু অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে এক আকর্ষণীয় ব্যাকহিলে বল প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়ে দেন।
এর মাত্র চার মিনিট পর অর্থাৎ ৭১তম মিনিটে ম্যাচে নিজেদের দ্বিতীয় গোল করে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় ফর্টিস এফসি। মোহাম্মদ ইব্রাহিমের বাড়িয়ে দেওয়া চমৎকার ক্রসে অনন্ত তামাং হেডের মাধ্যমে বল বাড়িয়ে দেন শিয়ান কাওয়াসাকির কাছে, যিনি দারুণ এক জোরালো ভলিতে প্রতিপক্ষের গোলকিপারকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করেন।
ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মাত্র দুই মিনিট আগে অর্থাৎ ৮৮তম মিনিটে জাপানে জন্মগ্রহণ করা ও সে দেশেই বেড়ে ওঠা ফুটবলার শুকি ইতোফুসা আরও একটি গোল করেন। তার এই দুর্দান্ত গোলটিই ফর্টিসের ৩-১ গোলের বড় ব্যবধানের জয় ও দলের পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়তে সাহায্য করে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।