
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
শারদীয় দুর্গোৎসবের ছুটিতে সিলেটের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণপিপাসুদের অভূতপূর্ব ঢল নেমেছে। সাদাপাথর খেয়াঘাটের মাঝিমালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার কেবল ওই ঘাট থেকেই প্রায় দুই হাজার নৌযান পর্যটকদের নিয়ে গন্তব্যে রওনা হয়। এর পরদিন গতকাল বৃহস্পতিবার এই সংখ্যাটা নেমে আসে প্রায় ১৭০০-তে এবং আজও প্রায় ১৫০০ নৌযান চলাচল করতে দেখা গেছে। ঘাটে নিবন্ধিত নৌকার সংখ্যা মাত্র দুইশটির মতো হলেও প্রতিটি নৌযান প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২টি করে ট্রিপ সম্পন্ন করেছে।
অতিরিক্ত পর্যটকের চাপে সিলেট শহর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার আবাসিক হোটেলগুলোতে তীব্র কক্ষসংকট দেখা দিয়েছে। অনেক ভ্রমণকারী আগে থেকে বুকিং না করায় শেষ মুহূর্তে এসে বিপাকে পড়েন। জিন্দাবাজার, আম্বরখানা ও দরগাহ গেট অঞ্চলের কোনো হোটেলেই খালি কক্ষ না পেয়ে বহু পর্যটক চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে তাদের একটি অংশ হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার চত্বরে রাত কাটাতে বাধ্য হন।
কুমিল্লা থেকে ঘুরতে আসা এমনই একজন পর্যটক মামুন আহমদ মাজার প্রাঙ্গণে অবস্থান নেওয়ার পর নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি জানান, পুরো শহর তন্ন তন্ন করেও তারা একটিও হোটেলকক্ষ ম্যানেজ করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না পেয়ে মাজারের উন্মুক্ত চত্বরেই রাত কাটাতে হচ্ছে তাদের। তবে বসার মতো কিছুটা জায়গা পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও সার্বিক পরিস্থিতি ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং।
এদিকে সিলেটে ভ্রমণের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে যাতায়াত ব্যবস্থার চরম অবনতির কারণে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চলমান সংস্কার কাজ এবং কিছু সংযোগ সড়কের বেহাল দশার ফলে সাধারণ সময়ের ছয় ঘণ্টার পথ অতিক্রম করতে পর্যটকদের ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি রেলওয়ের টিকিটের সংকট এবং আকাশপথে বিমানের চড়া ভাড়া ভ্রমণকারীদের দুর্ভোগ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
দরগাহ গেট এলাকার হোটেল স্টার প্যাসিফিকের স্বত্বাধিকারী ফালা উদ্দিন আলী আহমদ এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, যাতায়াত ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির পর্যটকরা এবার সিলেটে আসার সাহস পাননি। বর্তমানে তাদের হোটেলের মোট অতিথির প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশই করপোরেট খাতের মানুষ। একই সঙ্গে পর্যটনে সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টিও প্রভাব ফেলছে বলে তিনি মনে করেন।
ব্যবসায়িক দিক নিয়ে কথা বলেছেন সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রশাসক এজাজ আহমেদ চৌধুরী। তিনি জানান, চলমান পূজার ছুটিতে তাদের ব্যবসা বেশ ভালো হয়েছে এবং একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও চমৎকার নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছিল। পর্যটকরা কোনো ধরনের বাধাবিপত্তি ছাড়াই নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াতে পেরেছেন এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি।
পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পূজার ছুটির শেষাংশে পর্যটকদের এই উপচে পড়া উপস্থিতি তাদের নিজেদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ভ্রমণকারীদের পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম এবং পুলিশ সদস্যরা মাঠে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সবকটি দর্শনীয় স্থানে কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল এবং গত রাতে স্বয়ং তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে গিয়ে সেখানে মানুষের বিপুল সমাগম নিজের চোখে দেখেছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা