
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সাবেক এক কর্মীর বিরুদ্ধে করা অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের মামলার তদন্ত কার্যক্রম বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছে। পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম-দক্ষিণ ইউনিট এই মামলার দায়িত্ব পালন করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স কর্তৃপক্ষের নিকট প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে পত্র পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই চিঠির কোনো ধরনের উত্তর দেয়নি সংশ্লিষ্ট করপোরেট প্রতিষ্ঠানটি।
এক্স প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করতে হলে আইনি প্রক্রিয়া মানতে হবে। দুই রাষ্ট্রের উচ্চ আদালতের সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা ছাড়া তথ্য সরবরাহ করা সম্ভব নয় বলে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে। এই জটিলতার কারণে স্পর্শকাতর মামলাটির তদন্তের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করা তদন্তকারীদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে মূল অভিযুক্তের পাশাপাশি অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডিজিটাল ডিভাইস পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রেজাউল আমীন বাদী সিরাজুল ইসলামকে একাধিকবার পত্র পাঠিয়েছেন। দাপ্তরিক এই চিঠিতে ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং অন্যান্য ডিজিটাল আলামত হস্তান্তরের অনুরোধ করা হলেও তা এখনো জমা পড়েনি।
চলতি মাসের তিন তারিখে রাজধানীর এজিবি কলোনি এলাকার নিজ আবাসন থেকে রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাঁর হেফাজত থেকে একটি মুঠোফোন এবং একটি বহনযোগ্য কম্পিউটার জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এই বস্তুগুলো সিআইডির ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে পরীক্ষার জন্য, যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদন এসে পৌঁছায়নি।
আটকের অল্প সময়ের মধ্যেই আদালতের আলামতে জামিন লাভ করেন অভিযুক্ত মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম। নিজের বিরুদ্ধে আনীত সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে এসব ঘটনার বিষয়ে তাঁর কোনো ধারণাই নেই। সম্পূর্ণ নিরপরাধ হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং সঠিক উপায়ে অনুসন্ধান চালালে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেন তিনি।
তদন্ত দলের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে আটককৃত সরকারি কর্মীর মুঠোফোন ও কম্পিউটার তাৎক্ষণিকভাবেই তদন্ত দলের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে পরীক্ষাগারের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো তাদের হাতে আসেনি। শুধু একটি নির্দিষ্ট যন্ত্রের পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়, তাই জামায়াতের আমিরের ব্যবহৃত গ্যাজেটগুলোও পরীক্ষা করতে হবে।
জামায়াতের শীর্ষ নেতার আইনি পরামর্শক আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাটির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। অনেক আগের ঘটনা হওয়ায় তাঁর স্মৃতিতে বিষয়টি স্পষ্ট নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কোনো ইলেকট্রনিক চিঠির মাধ্যমে অ্যাকাউন্টটি বেআইনি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি। এমনকি এই ধরনের কোনো বার্তা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতার দপ্তরে পৌঁছেছিল কি না, তারও কোনো বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ বা ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সংগ্রহ করা যায়নি। প্রাথমিক অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত কিছু চিত্র ছাড়া অন্য কোনো আলেকপাত বা উপাত্ত পাওয়া যায়নি।
ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ফরেনসিক বিশ্লেষক তানভীর হাসান জোহা মত প্রকাশ করেছেন যে মামলার পক্ষগুলোর ডিভাইস জমা না দিলে এই রহস্যের সমাধান হওয়া অসম্ভব। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে আলামত হস্তান্তরে কালক্ষেপণ করলে তথ্য মুছে যাওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায় এবং একপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রমাণ চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
অন্যদিকে মামলার বাদী সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন যে গোয়েন্দা বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী যন্ত্রাংশগুলো হস্তান্তরের বিষয়ে তারা কার্যালয়ে গিয়ে আলোচনা করেছেন। এই প্রযুক্তিগত সামগ্রীগুলো কোন নিয়মে হস্তান্তর করা নিরাপদ হবে এবং তথ্য গোপনীয়তা বজায় থাকবে কি না, সে বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা